advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হামরা একন থাকি কোনটে...’

মিজানুর রহমান রাঙ্গা সাঘাটা
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ জুন ২০২০ ২৩:২১
advertisement

‘ঘরের মদে পানি। বাইরোত পানি। কোনটে যাবা, খালি পানি আর পানি। এ্যাংকে যন্তনা, সাড়া বাড়িই পানি- হামরা একন কোনটে যাই...।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন একটি উঁচু স্কুলের বারান্দায় গিয়ে আশ্রয় নেওয়া গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বন্যাকবলিত গাড়ামারা গ্রামের বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন। শুধু তছলিম নয়, এ রকমে দীর্ঘশ্বাস এ উপজেলার আরও অনেকের। এভাবেই বন্যার পানিতে ভাসা মানুষগুলো গত রবিবার এ প্রতিবেদককে নিজেদের কষ্টের কথা বলেন।

গত দুদিনে (শনি ও রবিবার) ঘরে বন্যার পানি উঠেছে। তাই ঘর ছেড়ে পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে স্কুলের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন তছলিম। কথা বলতে বলতে তছলিম জানালেন, বড় কষ্টেই আছেন পরিবার নিয়ে।

তছলিমের মতো একইভাবে স্কুলকক্ষে পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ আশ্রয় নেওয়া ওই গ্রামের ফয়জার হোসেন বললেন, ‘উঁচে জাগাতেও মানুষ ভর‌্যা যাচ্চে। এ্যানা কষ্ট করেই আছি হামরা।’

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বন্যাকবলিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি হলদিয়া ইউনিয়নে। এখানকার কোনো গ্রাম জেগে নেই। বন্যার পানি থেকে লোকজন নিজেদের ঘরের খাবার, আসবাবপত্র ও গবাদি পশু রক্ষার চেষ্টা করছেন। আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন উঁচু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা বাঁধ ও সড়কের দিকে।

গাড়ামারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ ও বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন আমিরুল ইসলাম, সুজন মিয়া, হানিফ মিয়া, ফয়জার হোসেন, রাসেল আহম্মেদ এবং কানাইপাড়া আশ্রয়ণকেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ভিকু মিয়া, আশরাফ আলী, ফকির উদ্দিন, বেলাল ম-লসহ আরও বেশকিছু পরিবারের সদস্যরা। আবার অনেকে উঁচু স্থান তৈরি করে নিজেদের ঘরেই কষ্ট করে বসবাস করছেন।

হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, এ ইউনিয়নের কোনো বাড়ি জেগে নেই। সব গ্রামের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে।

এদিকে সরেজমিন ফুলছড়ি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় লোকজন ধান, চাল ও আসবাবপত্র ঘর থেকে বের করছেন। উপজেলার কাতলামারী গ্রামের ছুনু মিয়া ঘরের মালপত্র বের করছিলেন। তিনি বলেন, আর একটু দেরি করলে ধান-চালসহ ঘরের খাবার সব নষ্ট হবে। তাই বড় রাস্তায় অস্থায়ী ঝুপড়ি তুলে সেখানে থাকবেন।

উজানের ঢলে বেড়েই চলছে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি। প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। গতকাল সোমবার বিকালে ফুলছড়ি ও সাঘাটায় পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত হয়েছে দুই উপজেলার আরও চারটি নতুন গ্রাম। জানা গেছে, ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাজে ফুলছড়ি নামাপাড়া, পশ্চিম কালুরপাড়া, পেপুলিয়া, গাবগাছি, পূর্ব টেংরাকান্দি, খোলাবাড়ি, দেলুয়াবাড়ি, জামিরা, বাগবাড়ি, সন্যাসীরচর, মাগরীঘাট, পশ্চিম জিগাবাড়ী, বুলবুলি, পাগলারচর, কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর, খলাইহারা, পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, কালাসোনা, উত্তর উড়িয়া, উদাখালী ইউনিয়নের পূর্ব সিংড়িয়া, গজারিয়া ইউনিয়নের গলনা, কাতলামারী, জিয়াডাঙ্গা, ফজলুপুর ইউনিয়নের পূর্ব খাটিয়ামারী, কাউয়াবাঁধা, উজালডাঙ্গা, কৃষ্ণমণি ও সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, নলছিয়া, গাড়ামারা, গোবিন্দপুর, সিপি, বেড়া, বাঁশহাটা, ভরতখালী, বরমতাইড়, হাসিলকান্দি, চিনিরপটলসহ অন্তত ৪০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাড়িঘর ডুবে যাওয়া হলদিয়া ইউনিয়নের নলছিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন, আসবাবপত্র ও ধান-চাল নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছি। উঁচু সড়কের খোঁজে বের হয়েছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির এ ধারা আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে তিনি নিজেসহ পাউবোর লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছি। বন্যাকবলিতদের সহযোগিতার জন্য উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত আছে।

advertisement