advertisement
advertisement

বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব

সংসদে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ১০:০২
advertisement

‘কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন প্রস্তাবিত বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়; কারণ এটি আকারে অনেক বড়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নে আশাবাদী। বাজেট উপস্থাপনের সাতদিন পরেই এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে গবেষণা করে। সেখানে তারা দেখিয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। আমাদের প্রক্ষেপণ হলো ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আমাদের কাছাকাছি তাদের প্রক্ষেপণ। এতেই প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেট বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সব মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সত্য যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চেয়ে প্রকৃত অর্জন আরও অনেক বেশি ছিল। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ, যা বিশ্বের সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না (চীন) ১৭৭ শতাংশ নিয়ে। আর ভারত ছিল ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে

আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ। তিনি বলেন, দি ইকোনমিস্ট ২ মে গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে; তাতে বাংলাদেশ রয়েছে নবম শক্তিশালী অবস্থানে। তিনি বলেন, আমাদের এই দেশটি একটি বৈচিত্র্যময়। এখনো আমাদের অর্থনৈতিক এলাকার যে চালিকাশক্তিগুলো সম্পূর্ণভাবে কোনোটাই এক্সপান্ড করতে পারি নাই। আমরা কৃষির কথা বলেছি, শিল্পের কথা বলেছি, আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতিক লভ্যাংশ) বলেছি। কিন্তু কোনোটাই আমরা পূর্ণমাত্রায় অর্জন করতে পারিনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বারবার একটিমাত্র কথা উঠে আসে যে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত একদম কম, অনেক কমÑ ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চার ভাগ, তা হলে আমাদের বছরে অর্জন করতে পারি আরও ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য কী কাজ দরকার? একটিমাত্র কাজ, সেটি হচ্ছে আমাদের অটোমেশন।

‘আমরা গত বছর (অটোমেশন) শুরু করেছিলাম, শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ। এটা করে আমরা প্রমাণ করব, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এ জন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে এখনো আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষি খাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারব। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ, যা বিশ্বে একটি রেকর্ড। কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছেÑ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, তাঁতি, জেলে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সব পেশার মানুষ, পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র কুটির এবং ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী, সব শ্রেণির, নৃগোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্যই এবারের বাজেট। এ দেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত আমাদের বাজেট ঘাটতিও।’

advertisement