advertisement
advertisement

ঢাবিতে ভাসমানদের খাদ্য সহায়তার ইতি আজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
৩০ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ১০:০২
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারীতে সংকটাপন্ন মানুষদের প্রতি ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের টানা খাদ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করে ছাত্রলীগের অন্যদেরও তা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের মধ্যে গত ১০০ দিন ধরে বন্ধুদের নিয়ে টিএসসিতে অবস্থান করে ভাসমান-অসহায় মানুষদের খাবার জোগান দিয়ে যাচ্ছিলেন সৈকত। সরকার সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোয় এবং বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় টিএসসিতে রান্না করা খাবার বিতরণের শততম দিন আজ মঙ্গলবার পূর্ণ করে এ কর্মসূচির ইতি টানছেন সৈকত। এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এ কর্মসূচি ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন বলে জানান সৈকত।

শততম দিন পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে অনলাইনে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে গতকাল যুক্ত হন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তানভীর হাসান সৈকত ও তার সতীর্থরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্বশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। গত ১০০ দিন ভাসমান-অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করেছে এই তরুণরা, দিয়েছে চিকিৎসাসেবাও। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি সম্মান রেখে টিএসসিতে রান্না করে খাবার বিতরণের মাধ্যমে যেভাবে সহায়তা করে আসছে তারা, তা সারাদেশে ছাত্রলীগকর্মীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বলেন,

আজকে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের কোনো ঘর নেই। যারা ভাসমান মানুষ, যারা এই শহরে খোলা আকাশের নিচে বাস করে, যারা ফুটপাতে বাস করে, যাদের বসবাস রেলস্টেশনে, টার্মিনালে ও ফ্লাইওভারের নিচে। ছাত্রলীগকে এসব মানুষের জন্য সামনের দিনগুলোয় এগিয়ে আসতে হবে। এদের কোনো তালিকা নেই, এদের তালিকা আপনাদেরকেই (ছাত্রলীগ) তৈরি করতে হবে। এই ভাসমানদের পাশে ১০০ দিন শেষ হওয়ার পরও আপনারা নতুন কর্মসূচি নেবেন। আমি নিজেও আপনাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গত ১৮ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধের পর শিক্ষার্থীরা যখন বাড়ি চলে যায়, তখন সৈকত ক্যাম্পাসের ছিন্নমূল ও ভাসমান মানুষের কথা চিন্তা করে টিএসসিতেই থেকে যান। প্রথমে নিজ উদ্যোগে ২৪ মার্চ থেকে নিজের জমানো ১৩ হাজার টাকা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই উদ্যোগের বিষয়টি জেনে পরে তার কয়েকজন বন্ধুও পাশে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আর্থিকভাবে কিংবা খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে সৈকতের এই উদ্যোগ সচল রাখতে সহায়তা করেছেন।

সৈকত মহামারীর কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অন্তত ১২ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি সমাপ্ত করলেও অসহায় মানুষের কর্মসংস্থান ও সুরক্ষায় কাজ করতে চান তিনি। সৈকত বলেন, সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার কারণে টিএসসিতে নিয়মিত খাদ্যসেবা গ্রহণ করা খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কাজ করার সুযোগ ফিরে এসেছে। তাই তাদেরকে কর্মসংস্থানমুখী করতে আমার এই কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করছি এবং পরবর্তী সময় আমি তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে চাই। মানবিক সহায়তার এই কাজে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুরের ছেলে সৈকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স বিভাগের মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তিনি ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন।

advertisement