advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দেশে করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তরুণদের জন্য!

অনলাইন ডেস্ক
৩০ জুন ২০২০ ২২:৪৯ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ২২:৫৫
রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে প্রবেশের জন্য তরুণদের দীর্ঘ লাইন। ছবি : গেটি ইমেজেস
advertisement

দেশে তরুণ প্রজন্মের জন্য করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেশি হচ্ছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আড্ডা ও অহেতুক ঘোরাফেরার প্রবণতা বেশি থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ আবার বলছেন, পরিবারের অর্থ যোগান দিতে তরুণদেরই চাকরি বা ব্যবসার জন্য বাইরে যেতে হয়, তাই তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। আর তরুণরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরিবারের অন্যান্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলছেন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংস্থা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউতের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যতজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তার ৫০ শতাংশেরই বয়স ২১ থেকে ৪০ বছর।

তরুণদের বেশি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণ বলতে গিয়ে আইইডিসিআরের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন বলেন, ‘তরুণরা উদ্বিগ্ন বোধ করছেন না। কারণ তারা দেখছেন যে আক্রান্ত হলেও তাদের উপসর্গগুলো খুব গুরুতর নয়। অনেক সময় তাদের মধ্যে কোনো উপসর্গই দেখা যায় না। তারা দেখছে যে মূলত বয়স্করাই বেশি মারা যাচ্ছেন। তাই করোনাভাইরাসকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নামলে দেখা যায় অনেক তরুণ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আড্ডা দিচ্ছেন। কারো মুখে হয়তো মাস্ক আছে, কারো নেই। কেউ আবার মাস্ক গলায় ঝুলিয়ে রেখেছেন। তারা বাইরে বের হন বেশি, তাদের মধ্যে রেকলেস হওয়ার প্রবণতাও বেশি।’

তরুণদের কারণে পরিবারের অন্যান্যরাও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে মত অধ্যাপক তাহমিনা শিরিনের। তিনি বলেন, ‘এই তরুণরাই বাড়ি গিয়ে নিজের পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়দের সংক্রমিত করছেন। পরিবারে আগে থেকেই কারো হার্ট, কিডনির সমস্যা বা ডায়াবেটিস আছে তাদেরকেও বড় ঝুঁকিতে ফেলছেন।’

তিনি বলেন, ‘তরুণরা নিজেরা আক্রান্ত হয়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছেন। তাদের কারণেই হয়তো একজন বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর পরিস্থিতিতে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে হাসপাতাল ব্যবস্থার ওপরেও চাপ পড়ছে।’

তরুণরা কীভাবে পরিবারের অন্যান্যদের ঝুঁকিতে ফেলছেন তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশের পরিবার কাঠামোর ওপর জোর দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো পরিবারগুলোতে বাবা-মা, ভাই-বোন হয়তো অন্য কোনো আত্মীয় সবাই মিলে একসঙ্গে থাকেন। বাংলাদেশে কয়টি পরিবার সবার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে পারে? হয়ত দুই ভাই বা দুই বোন একরুমে থাকেন। স্বভাবতই তরুণদের কেউ বাইরে গিয়ে আক্রান্ত হলে তিনি বাড়িতে অন্যদের সংক্রমিত করবেন।’

২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বয়সীরাই মূলত পরিবারের অর্থের যোগান দেয়ার দায়িত্ব পালন করেন বেশি। তাকে চাকরির জন্য, ব্যবসা বাণিজ্য বা পরিবারের অন্যান্য কাজে বাইরে যেতে হয় বেশি।’

advertisement