advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি করোনার পর

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ২৩:৫৩
advertisement

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসজনিত সংকট কেটে গেলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশনের শুনানি শুরু হবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এর আগে জাতীয় পার্টির

মুজিবুল হক ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যকালে ষোড়শ সংশোধনীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে রিভিউ পিটিশন হিসেবে আপিল বিভাগে আছে। যখনই করোনা ভাইরাস আমাদের ছেড়ে যাবে তখনই শুনানি শুরু করব।

বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছর নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। এর পর ২০১৫ সালের ৫ মে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আপিল করে এবং শুনানি শেষে ওই বছর ৩ জুলাই আপিল বিভাগ ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন। পরে আপিল বিভাগের ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষ রিভিউ পিটিশন করে।

এদিকে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেট দাবির বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়ে ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। ওই মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ কমিয়ে এক টাকা করার দাবি করেন তারা। তবে ছাঁটাই প্রস্তাাবের ওপর দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন উল্টো কথা। প্রায় সব সংসদ সদস্যই ওই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলেছেন। বেশি করে বরাদ্দ চাইতে না পারায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করেন তারা। অবশ্য আইনমন্ত্রী বলেছেন, আমি আস্তে আস্তে এগোতে চাই। বরাদ্দ যথাযথভাবে খরচ করে অর্থমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে চাই।

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সামান্য গরু চুরি করে বছরের পর বছর কোর্টের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। আর হাজার হাজার কোটি টাকা যারা চুরি করছে তারা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনে সমতা নেই। আমাদের টাকা দিতে অসুবিধা নেই। টাকা তো দিতেই হবে।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী ভদ্র মানুষ। এ জন্য ভদ্রতার খাতিরে তিনি অল্প দাবি করেছেন। এই মন্ত্রণালয়ের অনেক অর্থের প্রয়োজন। আদালতে বিচারকদের চেম্বার নেই। এজলাস ভাগ করে বিচারপতিরা বসেন। তাদের আবাসনের ব্যবস্থা নেই।

মুজিবুল হক বলেন, আইনমন্ত্রী একজন দক্ষ মানুষ। উনি টাকা চাইতে কম চেয়েছেন কেন? এই রিমাইন্ডার দেওয়ার জন্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছি। এটা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ছাঁটাই প্রস্তাব। দেশে মামলার জট। এই জট কমাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ দিতে হবে। এ জন্য আমাদের টাকা দিতে আপত্তি নেই। আমরা টাকা দিতে চাই। আপনি টাকা নেন।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, রাষ্ট্রপতি বছরের শুরুতে সংসদে যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখানে বিপুল সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাজেট বক্তব্যে তার কোনো প্রতিফলন নেই। বর্তমানে দেশে যে সংখ্যক বিচারপতি রয়েছেন তাদের নিয়ে দেশের বিদ্যমান মামলাগুলো ৩০ বছরেও শেষ হবে না। মনে হচ্ছে দেশের বিভাগ ব্যবস্থাকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও এটা ছাঁটাই প্রস্তাব, তার পরও বলছি এত বড় বাজেট সেখানে মাত্র এক হাজার কোটি সামথিং বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ। এর সঙ্গে লেজিসলেটিং উইংয়ের জন্য ৪০ কোটি। এটা তো প্রচুর হওয়া উচিত ছিল। আরও অনেক বেশি হওয়া দরকার ছিল। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ বলেন, আমরা যদিও ছাঁটাই প্রস্তাব করেছি; কিন্তু এই বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য, সত্যিকার ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যদি আরেও টাকার প্রয়োজন হয় সেই অর্থ দাবি করা হলে আমরা সংসদ থেকে অবশ্যই তা পাস করব।

তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে, আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করব কিনা। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনো নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়। দেশের স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হয়েছে, কিন্তু এখনো আমাদের দেশে বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে পারিনি। আজ বলতে দ্বিধা নেই, সারা বাংলাদেশে চিহ্নিত মাদকসম্রাট, চিহ্নিত মাদক পাচারকারী, চিহ্নিত সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারীরা বিচারের আওতার বাইরে। আজ বিচারব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। মিথ্যা মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছেন, আদালতে ঘুরছেন, সুপ্রিমকোর্টে ঘুরছেন। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায় বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে।

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারি দলের বিপক্ষে রায় দেওয়ায় অনেক অধস্তন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আমি মনে করি বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার আগে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করব। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই সময় সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করলে হারুন অর রশীদ আরও জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।

জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুন অর রশীদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সব কিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েছি।

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, আমি ভদ্রলোক। কিন্তু আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম। এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছি। ওনারা বলেন এক হাজার দেন। আমি দুই হাজার কোটি টাকা চাইলে তো ওনারা হার্টফেল করতেন। সে জন্য আমি আস্তে আস্তে চাচ্ছি। আমি কাজ দেখিয়ে অর্থমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে চাই এবং সেটা নিয়ে যেতে চাই।

advertisement