advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সংসদে তোপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অপসারণ দাবি

সমন্বয়হীনতা নেই ঢাকা মেডিক্যালে দুর্নীতির অভিযোগ টোটালি রং

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ২৩:৫৩
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় ‘অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম-দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতার’ অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অপসারণ দাবি করা হয়েছে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা এ দাবি করে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করার দাবিও তোলেন। তবে সবার সব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনা ভাইরাসের মহামারী মোকাবিলায় বিগত ৩ মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকগুলো তুলে ধরেন সংসদে। এমনকি তিনি দাবি করেন সবাই মিলে কাজ করার কারণে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হার কম হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার নতুন অর্থবছরের বাজেটের মঞ্জুরি দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন।

ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। করোনা মহামারী মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকা- নিয়ে সংসদের বাইরেও সমালোচনা হচ্ছে। এমনকি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আর গতকাল সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কঠোর সমালোচনা এবং তার অপসারণ চাওয়া হয়েছে।

গতকাল সংসদে আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, সবকিছু যদি প্রধানমন্ত্রীরই করতে হয়, তা হলে মন্ত্রণালয়-অধিদপ্তর এত রাখার তো দরকার নেই। রোজার মাসে দেখেছি চার ঘণ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কীভাবে হাঁচি দিতে হবে তাও শিখাচ্ছেন। দূরত্ব রেখে কীভাবে থাকতে হবে, কী খেতে হবে তাও শিখাচ্ছেন। এত টাকা খরচ করে লাভ কী? আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাই অনুসরণ করব। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। দেখা যায়, অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানেনও না। এ সমন্বয়হীনতার জন্য প্যাঁচ খেয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল আমরা অধিগ্রহণ করতে পারতাম। আগে থেকে যদি জানতে পারতাম বেড কত, আইসিইউ কয়টা, ভেন্টিলেশন কয়টাÑ সব ডেটা যদি থাকত। সরকারি হাসপাতালের হয়তো আছে, কিন্তু প্রাইভেট হাসপাতালেরটা নেই। এগুলো যদি পূর্বেই রেখে দিতেন তা হলে এ অবস্থা হতো না।

বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় খরচের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলো সোনার হরিণ। কাউকেই ভর্তি করে না। কেউ কেউ ভর্তি হলে যদি বেঁচে থাকেন তবে ৩-৪-৫-৭ লাখ টাকা দিতে হয়। ঘুম থেকে জাগলে সকাল, না জাগলে পরকাল। কোনো সমন্বয় নেই।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেছিলাম করোনার বিষয়ে। বলেছিলাম, এটা কী জিনিস? খায় না কি পরতে হয়? স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেন প্রেস কনফারেন্স বা অন্যভাবে জানায়, কী পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা তখন নেওয়া হয়নি। নেওয়া হলে এত গুরুতর অবস্থা হতো না।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয়, সাবেক-বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যারই হোক, অসুখ হলে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। প্রধানমন্ত্রী, আপনি একটা নির্দেশনা দেন। এমপি, মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করবেন। জরুরি প্রয়োজন না হলে বিদেশ যাবে না। তা হলে উন্নতি হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মুজিবুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টা খবর রাখছেন। কিন্তু আপনার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তো একবার ঢাকা মেডিক্যালে, একবার সোহরাওয়ার্দী, একবার জাতীয় হৃদ?রোগ হাসপাতালে কিংবা পিজিতে ভিজিট করা উচিত ছিল। আমি সেখানে এমনিতেই গেছি। ডাক্তাররা বলছেন, এখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলে আমরা অনুপ্রাণিত হতাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির এ সাংসদ বলেন, গত ৩ মার্চ স্বাস্থ্যের মহাপরিচালক বললেন, বাংলাদেশের যে আর্দ্রতা, গরম, করোনা বাংলাদেশে আসতে আসতে মরে যাবে। কোনো সমস্যা হবে না। আবার ২৫ জুন সেই একই ব্যক্তি বললেন, করোনা দুই থেকে তিন বছরে যাবে না। আমি জানি না, এসব সরকারি অফিসার কী লেখাপড়া করে, কীভাবে কথা বলে? এগুলো দেখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, থানা-উপজেলায় প্রথমে খুবই নিম্নমানের পিপিই দেওয়া হলো। তার এলাকায় এগুলো পরে ডাক্তার-নার্স আক্রান্ত হলেন। যিনি দিলেন সেই জেএমআই দুঃখ প্রকাশ করলেন। যারা আক্রান্ত হলেন, মারা গেলেন কে জবাব দেবে?

বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ বলেন, করোনায় মারা যাবে। সারাপৃথিবীতে যাচ্ছে। কিন্তু কতটুকু চিকিৎসা দিতে পারছি, এটাই বড় প্রশ্ন? দেশে সেই চিকিৎসাটাই নেই। নমুনা পরীক্ষার ২৩ শতাংশ পজিটিভ আসছে। তাও ফল পাওয়া যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন পর। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে। তিনি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট বাড়ানোর দাবি জানান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতা রয়েছে অভিযোগ করে তা সংস্কার করার প্রস্তাব করেন হারুন।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এ স্বাস্থ্যব্যবস্থা দিয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবা দেওয়া অসম্ভব। চিকিৎসাসেবা সম্পর্কিত সেক্টরগুলোতে নন-ডাক্তারদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল সেক্টরের প্রশাসন থেকে শুরু করে সবকিছু ডাক্তারদের হাতে রাখা দরকার। আমাদের দেশে হেলথ ডাটাবেজ নেই। এটা জরুরি।

শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, বেসরকারি অনেক হাসপাতালে ডাক্তাররা ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। বেতন পান ২০ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর লাগাম টানতে না পারলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা দাঁড় করানো যাবে না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি তুলে ধরতে গিয়ে জাপার আরেক সাংসদ পীর ফজলুর রহমান বলেন, ৩৭ লাখ টাকার পর্দার কথা শুনেছি। ডাক্তারদের ২০ কোটি টাকার খাওয়ার বিল এসেছে। সেখানে একটি কলার দাম ২ হাজার টাকা। একটা ডিমের দাম এক হাজার টাকা। রুটির এক সøাইসের দাম তিন হাজার টাকা। এ অবস্থা করোনাকালেও।

জিম্বাবুয়ের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পিপিই ও কিট কেনায় দুর্নীতির দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনাকালে এসে আমাদের এ রুগ্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুরবস্থা। মানুষ বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নাকি মীনা কার্টুনে পরিণত হয়েছে। মীনা কার্টুনের টিয়া পাখি (মিঠু) দিয়ে চলছে এ মন্ত্রণালয়।

পীর ফজলুর রহমান বলেন, এলাকায় গেলে মানুষ আমাকে অনুরোধ করেন যে, আমি যেন সংসদে গিয়ে বলি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অন্য কোনো দায়িত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়টাকে সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করতে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে মানুষের এ কথাটা নিবেদন করলাম।

সংরক্ষিত নারী সাংসদ রওশন আরা মান্নান বলেন, করোনার পর পৃথিবীতে অনেক কিছু হবে। সভ্যতার সংকট, নেতৃত্বের অদল-বদল হবে। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে থাকবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। সচেতনতার অভ্যাসগুলো থেকে যাবে। তাই স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রওশন আরা মান্নান বলেন, সারাবিশ্বের মানুষ স্বাস্থ্য খাত ও নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে এখন ব্যস্ত। সেবা খাতের সঙ্গে বেশি দুর্নীতি থাকে। এ জন্য বলব স্বাস্থ্য খাতে অবশ্যই দুর্নীতি রয়েছে। আমি এ জন্য বলতে চাই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি বিবৃতি দেনÑ এ খাতে কী ছিল? এখন কী আছে? উনি কী করেছেন? কত ভেন্টিলেটর আছে? কেন কিট পাওয়া যায় না? কেন মানুষ মারা যাচ্ছে? করোনা নিয়ে সরকার কী করেছে, এটা নিয়ে যদি বিবৃতি দিতেন।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, সংসদ সদস্যরা সংসদে আমাদের কেবল দোষারোপ করে গেছেন। আমরা কী কাজ করেছি, তা আসেনি তাদের বক্তব্যে। কোভিড আসার শুরু থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চিনে কোভিড দেখা দেওয়ার পরপরই আমরা পোর্টগুলোয় স্ক্রিনিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রত্যেক জেলা-উপজেলার হাসপাতালে কোভিডের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করেছি। আমরা জাতীয় পর্যায়ে কমিটি তৈরি করেছি। ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে আমাদের দেশে করোনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এই হার ভারতে ৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১৪ শতাংশ। এটা এমনিতেই হয়নি। সবাই কাজ করেছে বলেই এটা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় মিডিয়া বলে, আমরা এখন ঘরে বসে আছি। মিডিয়া যদি সব সময় শুধু মৃত্যুর খবর, দুঃসংবাদ দিতে থাকে, তা হলে আমাদের যারা তরুণ জেনারেশন আছে, তারা কিন্তু মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাবে। আমাদের বয়স্করাও অসুস্থ হয়ে যাবে। আমরাও যারা আছি, তারাও অসুস্থ হয়ে যাব। তাই আমাদের একটু পজিটিভলি কথা বলতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচ মাস কিন্তু আমরাই মাঠে আছি। প্রতিটি হাসপাতাল যে আমরা যাইনি, এ কথাটা সঠিক নয়। বসুন্ধরা কীভাবে বানিয়েছি। ২৫ দিনে বসুন্ধরা আইসোলেশন সেন্টার, হাসপাতাল করা হয়েছে। যেখানে দুহাজার বেড আছে। যতগুলো কোভিড সেন্টার রয়েছে, সব কটি উদ্বোধন করেছি। ডাক্তার-নার্স আমরা যারা কাজ করি, তাদের অনুপ্রাণিত করলে তারা আরও কাজ ভালো করবে। ৫০ জন ডাক্তার-নার্স মারা গেছেন। সব সময়ই যদি সমালোচনা করি, তা হলে সঠিক হবে না।

ঢাকা মেডিক্যালের করোনা সম্পর্কিত চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের থাকা-খওয়ার বিষয় নিয়ে যে কথা হয়েছে, আমি খোঁজ নিয়েছি। কাল (সোমবার) রাতে আমি এটা দেখেছি। ৫০টি হোটেল ভাড়া হয়েছে। সেখানে তিন হাজার ৭০০ মানুষ একমাস থেকেছে। প্রত্যেকটি রুমের ভাড়া এগারোশ’ টাকা। খাওয়ার খরচ যেটা বলা হয়েছে তা টোট্যালি রং। সেখানে দিনের তিনটি মিলের জন্য খরচ ৫০০ টাকা হয়েছে। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার মিলে ৫০০ টাকা। যে হিসাবটি দিলেন, পুরোপুরি ভুল।

সফটওয়্যার ক্রয়ে দুর্নীতি বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সফটওয়্যার ক্রয় হয়নি। এটা প্রাক্কলন। বিশ্বব্যাংকের টাকা। তারাই ক্রয় করবে।

আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সংকট নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আইসিইউ নিয়ে অনেক কথা হলো। ভেন্টিলেটর নিয়ে বিরাট হইচই। কিন্তু দেখা গেছে ভেন্টিলেটরের কোনো প্রয়োজনই নেই। ভেন্টিলেটরে যারা গেছেন তাদের প্রায় সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। আমাদের চারশ’ ভেন্টিলেটর আছে। এর মধ্যে ৫০টিও ব্যবহার হয়নি। সাড়ে তিনশ’ ভেন্টিলেটর খালি পড়ে আছে। কারণ তখন মানুষ এটা জানতো না।

তিনি বলেন, করোনার কী চিকিৎসা লাগবে ডব্লিউএইচও তা বারবার চেঞ্জ করেছে। আমরাও সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন করেছি। কেউ কিন্তু আগে বলেনি পিপিই লাগবে। যখন বলা হলো, তখন সারাবিশ্ব লকডাউন। এ লকডাউনের কারণে আমরা পিপিই পাচ্ছিলাম না। যন্ত্রপাতি পাচ্ছিলাম না। পরে আস্তে আস্তে ব্যবস্থা করছি। এখন আর সেই অভিযোগ নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০ লাখ পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে। এখন হাইফ্লো অক্সিজেনের প্রয়োজনের কথা বলা হচ্ছে। আমরা এক হাজার অক্সিজেনের অর্ডার দিয়েছি। প্রায় ১০ হাজার নতুন সিলিন্ডার বানানো হয়েছে।

চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, পিপিই কীভাবে পরতে হবে এবং খুলতে হবে এ বিষয়টি জানা না থাকার কারণেই তারা আক্রান্ত হয়েছেন। এ জন্য আমরা তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। ফলে আক্রান্তের হার কমে গেছে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের মাত্র একটি টেস্টিং ল্যাব ছিল। দেড় মাসে আমরা এখন ৬৮টি ল্যাব করেছি। দিনে মাত্র দেড়শটা টেস্টের ব্যবস্থা ছিল, সেটা এখন ১৮ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এটা এমনিতেই হয়নি। আমরা জানি আমাদের আরও টেস্ট দরকার। আরও করলে ভালো হয়। কিন্তু কোটি কোটি লোককে টেস্ট করতে পারবেন না। এটা আমাদের মানতে হবে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসায় প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি। আমরা তাদের নিয়ে এসেছি। এখন তারা কোভিড চিকিৎসা দিচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে, তারা বিলটা একটু বেশি করছে। কোভিড চিকিৎসায় ব্যয় একটু বেশি। আমরা বলেছি, আমরা চার্জ ঠিক করে দেব। এই সময়ে আপনারা লাভের চিন্তা করবেন না। মানুষকে সেবা দিন।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের মোট বেডের ৬০ শতাংশে এখন রোগী আছে। ৪০ শতাংশ বেড এখনো খালি পড়ে রয়েছে। প্রায় ১৪ হাজার বেড করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত আছে। সেখানে রোগী আছে চার হাজার।

সংসদ সদস্যদের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ অস্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা নেই। ৫ মাস কিন্তু আমরাই মাঠে আছি। ২৫ দিনে বসুন্ধরায় দুই হাজার বেডের হাসপাতাল বানিয়েছি। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। সবার সহযোগিতা পেলে কোভিড চলে যাবে। স্বাভাবিকভাবে অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন। মাদার অব হিউম্যানিটি, সাউথ সাউথ পুরস্কার পেয়েছেন। সব স্বাস্থ্যের কারণে হয়েছেন। আমাদের এখন গড় আয়ু ৭৩ বছর। আর অল্প দিন হলেই এটা আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে ফেলব। তাদের এখন গড় আয়ু ৭৮ বছর। কাজেই এটা স্বাস্থ্যের একটা বড় অবদান।

advertisement