advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনাকালের বাজেট পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ ২৩:৫৩
advertisement

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেট পাস হয়। আজ বুধবার থেকে নতুন বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হবে। সাধারণত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে দীর্ঘ আলোচনার ইতিহাস থাকলেও এবার আলোচনা হয়েছে মাত্র দুদিন, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ড।

মঙ্গলবার অধিবেশনের শুরুতেই মঞ্জুরি দাবিতে আলোচনা করার কথা জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাদের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত মঞ্জুরি দাবি সংসদে তোলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য মন্ত্রীরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কণ্ঠভোটে সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খাতের ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপির সংসদ সদস্যরা ৪২২টি বিভিন্ন ধরনের ছাঁটাই প্রস্তাব আনেন। এর মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের দাবি ও ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বিরোধী দলের আলোচনার পর সব প্রস্তাব কণ্ঠভোটে বাতিল হয়ে যায়। সর্বশেষ স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল নির্দিষ্টকরণ বিল ২০২০ জাতীয় সংসদে পাস করার জন্য উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে তা পাস হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এবং সরকারি-বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত

ছিলেন। উপস্থিত সদস্যরা টেবিল চাপড়ে অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে এবার বাজেট অধিবেশন ছিল অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। সাধারণত বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হয়। অর্থমন্ত্রীর বাজেট পেশের পর প্রায় এক মাসের পুরো অধিবেশনজুড়ে এর ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। সাধারণ বাজেটের ওপর ১২ থেকে ১৫ দিন কার্যদিবসে ৫০ থেকে ৬০ ঘণ্টা আলোচনার রেকর্ড রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা হয়েছে মাত্র দুই দিন। সচরাচর সম্পূরক বাজেটের ওপর দুই থেকে চার দিন আলোচনা হয়। এবার সম্পূরক বাজেটের ওপর ১ দিন আলোচনা করে সেদিনই তা পাস করা হয়েছে। এবার সম্পূরক ও মূল বাজেটের ওপর সব মিলিয়ে আলোচনা হয়েছে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মতো, যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে রেকর্ড। করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে বসা অধিবেশনের চিত্রও ছিল ভিন্ন। সংক্রমণ এড়াতে প্রতিদিন পূর্বনির্ধারিত ৮০-৯০ জন এমপিকে নিয়ে কার্যক্রম চলে। গতকাল পর্যন্ত মোট সাত কার্যদিবস চলে সংসদের অধিবেশন। এবারের বাজেট অধিবেশনে ছিল না সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশের অনুমতি। সাধারণ বাজেট পাসের দিন অর্থমন্ত্রী আমন্ত্রণে সংসদ সদস্যসহ বাজেট সংশ্লিষ্ট অনেককে নিয়ে একটি ভোজের আয়োজন করা হয়। এবার তাও হচ্ছে না।

গত ১১ জুন উপস্থাপন করা এবারের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথ পরিক্রমা’। করোনা ভাইরাস সংকটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় খুব বেশি না বাড়িয়ে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ৬.২৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এবার পরিচালন ব্যয় (ঋণ, অগ্রিম ও দেনা পরিশোধ, খাদ্য হিসাব ও কাঠামোগত সমন্বয় বাদে) ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত অনুন্নয়ন বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধেই যাবে, যা মোট অনুন্নয়ন ব্যয়ের প্রায় ১৯ শতাংশ। বাজেটে রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের ৮.৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে, ১ লাখ ২৫ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা ১ লাখ ৯ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৫৭ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৫৫ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈদেশিক অনুদান থেকে ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে। এ বাজেটে আয় ও ব্যয়ের হিসাবে সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৬ শতাংশের মতো। সাধারণত ঘাটতির পরিমাণ ৫ শতাংশের মধ্যে রেখে বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা হলেও এবার তা সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকে ৮০ হাজার ১৭ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা ঋণ করে ওই ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে বাজেটে।

advertisement