advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাকা মেডিক্যালের বিল
দ্রুত সম্মানজনক সমাধান হওয়া প্রয়োজন

১ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১ জুলাই ২০২০ ০১:০৩
advertisement

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা উঠেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এতে দুঃখও প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। যতদূর জানা যাচ্ছে, তারা বিভিন্ন হোটেলে ছিলেন এবং সেখানে খাদ্যগ্রহণ করেছেন। যদি পাঁচতারকা হোটেলের স্বাভাবিক বিল ধার্য হয়, তা হলেও এত টাকা হওয়ার কথা নয়। অবশ্য জেনেছি বালিশ, পর্দার মতো উপকরণের মূল্য হাজার হাজার টাকা হয়। সেখানে বড় হোটেলের বিল যে বেশি ধরা হবে, তা অস্বাভাবিক নয়। আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিষ্কার কথাবার্তা বলা দরকার ছিল। এই জরুরি অবস্থার মধ্যে স্বাভাবিক সময়ের মতো রুম সার্ভিস থাকা উচিত নয়। একইভাবে খাবারের ক্ষেত্রে মেন্যু নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত ছিল। সবাইকেই ভাবতে হবে এটি একটি আপৎকালীন জরুরি ব্যবস্থা। এখানে আরাম-আয়েশ কিংবা ভোজনবিলাসের সুযোগ নেই। ফলে দেখা দরকার কীভাবে এই বিশাল বিল তৈরি হলো।

করোনা মহামারী মোকাবিলার ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি, সরকার নানা রকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু তা বাস্তবায়নের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব থেকে যাচ্ছে। যেমনÑ লাল, হলুদ, সবুজ এলাকা ভাগ করা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে পারছে না। ঘোষণার আগেই মাঠপর্যায়ে কীভাবে এটি বাস্তবায়িত হবে, এর খুঁটিনাটি পরিকল্পনা ও যথেচ্ছ ব্যবস্থা গ্রহণ আগেই করা দরকার ছিল। ঘোষণার পর বোঝা যাচ্ছে, পূর্বপরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ঘাটতি রয়ে গেছে। একইভাবে দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা হাসপাতালগুলো করোনা মহামারী মোকাবিলার জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করা হয়নি। ফলে ঘোষণার সঙ্গে বাস্তবের মিল হচ্ছে না। একই কারণে যখন তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তখন সর্বোচ্চ মাত্রার দক্ষতা ও সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। এ একই অভিজ্ঞতা ঘটল চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার বিষয়ে।

আমরা কাগজ-কলমে পরিকল্পনা করতে পারি। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সব সময়ই দুর্বলতা দেখা যায়। এটি বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিবছর দৃষ্টিগোচর হয়। বারবার বলা হলেও এ ক্ষেত্রে সংশোধনের কোনো প্রয়াস দেখা যায় না। তবে করোনার মতো ভয়ঙ্কর মহামারী প্রতিরোধ করতে হলে কেবল পরিকল্পনাতেই আটকে থাকলে চলবে না। এখানে মূল কাজ মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অভীষ্ট ফল অর্জন। আমরা এ বিষয়ে আদর্শ অবস্থা থেকে অনেক পিছিয়ে আছি। বারবারই আমাদের নানা ক্ষেত্রে হোঁচট খেতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়া নিয়ে এ সময়ে অনভিপ্রেত কোনো ঘটনা কাম্য ছিল না। সরকার বা চিকিৎসকÑ কারও বিষয়ে প্রশ্ন তোলা বা কারোরই বিতর্কিত হওয়া উচিত নয়। তাদের সমঝোতা ও যৌথ কর্মই আমাদের এ সংকট থেকে মুক্তি এনে দিতে পারে।

advertisement