advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জীবন এখন যেমন

এমি জান্নাত
১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১ জুলাই ২০২০ ০১:৩২
advertisement

করোনা পরিস্থিতিতে পুরো বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে আছে। সারাবিশ্বে বিরাজ করছে এক সংকটময় অবস্থা। চারদিকে আতঙ্ক। তবু থেমে নেই মানুষের জীবন। করোনাকালে মানুষের জীবনযাপন নিয়ে লিখেছেন

এমি জান্নাত

জীবন ও জীবিকায় প্রভাব

প্রতিনিয়তই মানুষকে এ সংকটের সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবিকার তাগিদে ছুটতে হচ্ছে। চরম প্রভাব পড়েছে দিনমজুরদের ওপর। একটা দিন কাজ না করলে যাদের তিনবেলা খাবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অনেকেই ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছেন সবকিছু গুটিয়ে। ব্যবসা বন্ধ, সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের উৎস। নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে। তবে অনেকেই নতুন করে সৃজনশীল কাজে মনোযোগী হয়েছেন। বিশেষ করে নারীরা নতুন করে আয়ের উৎস খুঁজে নিচ্ছেন অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে। যারা চাকরি করছেন, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান অর্ধেক বেতন দিচ্ছে। আবার কেউ কেউ হারাচ্ছেন আয়ের একমাত্র উৎস তার চাকরিটি। তবু সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছে জীবন। এ সংকটকালীন মুহূর্তে মানবজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি সামনে হাতছানি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নতুনত্ব।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বন্ধ হয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমেছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময়টাও কমেছে। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি চাপ না থাকায় বাড়িতে একঘেয়ে জীবনে পড়াশোনায় মনোযোগ পুরোপুরি দিতে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়ে সরকারিভাবে টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হলেও শিক্ষার্থীরা সেভাবে মানিয়ে নিতে পারেনি। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মনেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ার আনন্দ আজ থমকে গেছে করোনা ভাইরাসের এই প্রভাবে। কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পাসজীবন থেকে দূরে থেকে খারাপ লাগছে এটা ঠিক কিন্তু এই মুহূর্তে কোনো ঝুঁকিতেও পড়তে চায় না। সরকারের সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান জানায়। এখন শুধু সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় প্রহর গুনছে।

বিনোদনে বাধা

যেহেতু সবাই অতিজরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না গিয়ে ঘরেই থাকছেন, সেহেতু পাচ্ছেন না বাড়তি বিনোদনের সুযোগ। ঘরে বসে টিভি, ইন্টারনেট নিত্যদিনের বিনোদন না হয়ে বিরক্তির কারণ হচ্ছে। মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে প্রকৃতির খোলা হাওয়া থেকে, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া থেকে। শিশুরাও বঞ্চিত হচ্ছে বাইরের আনন্দ থেকে। তারা স্বভাবজাতই বাইরেমুখো হয়। তাই তাদের জন্য ঘরেই বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তা না হলে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটবে না সঠিকভাবে। এ সময় বেশিরভাগ মানুষ সচেতনতা অবলম্বন করছে। কিন্তু খানিকটা বাধ্য হয়ে। তবে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ায় পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হচ্ছেÑ যেটি যান্ত্রিকজীবনের অধিক ব্যস্ততায় হারিয়ে যাচ্ছিল।

প্রাণ ও প্রকৃতি

করোনাকালে মানুষ যখন হতাশায় দিশাহারা, ঠিক তখন প্রকৃতি তার নিজের ছন্দে ফিরছে। কলকারখানা বন্ধ থাকায় বাতাসে দূষণের হার কমেছে। এই সময়ে প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে আসা মানুষের চাপ নেই। তাই পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকছে সেসব এলাকায়। তাই সড়কে যান চলাচল তুলনামূলক কম, ধুলাবালিও আগের মতো নেই। গাছে গাছে রঙিন ফুলের সমারোহ। প্রকৃতি যেন মেলে ধরেছে তার নিজস্ব অপরূপ সৌন্দর্য।

করোনাকালে বদলে গেছে অনেক কিছু। এ সময় সবচেয়ে বেশি জরুরি সতর্কতা অবলম্বন করা। বাইরে গেলে হ্যান্ডগ্লোভস, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাইরে থেকে এসে স্যানিটাইজড হতে হবে এবং কাপড় বদলে ফেলতে হবে। ঠা-া খাবার পরিহার করা ভালো। পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে নিয়মিত। এ সময় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবনযাত্রায়। এখন শুধু সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় এগিয়ে চলেছে মানবজীবন। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন খানিকটা সময় বের করে ইয়োগা করাটাও জরুরি।

advertisement