advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রত্যাখ্যান করছি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটকে অবাস্তবায়নযোগ্য উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে নতুন অর্থবছরের শুরুর দিন গত বুধবার বাজেটের নথি ছিঁড়ে তা

প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা।

মির্জা ফখরুল গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটি স্রেফ একটা সংখ্যানির্ভর ধূম্রজাল সৃষ্টিকারী বাজেট। বিএনপির সুপারিশ ও অর্থনীতিবিদদের মতামত উপেক্ষা করে গতানুগতিক অবাস্তব বাজেট পাস করা হয়েছে। ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার একটি অপরিণামদর্শী ও বাস্তবতাবিবর্জিত গতানুগতিক এ বাজেটকে অর্থনীতিবিদরাও স্বপ্নবিলাস বলেছেন। এটি কোনোভাবেই করোনাকালীন বাজেট নয়। এটি একটা প্রোটো টাইপ ব্যুরোক্রেটিভ ফরম্যাটের মধ্যে ফেলে তৈরি করেছে। অগ্রহণযোগ্য এ বাজেট আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ বাজেটে স্বাস্থ্য, কৃষি, এসএমই, গ্রামীণ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্য সংকটে পড়া মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে দেওয়া, কর্মহীন হয়ে পড়া অনাহারী মানুষকে দুর্ভিক্ষের মধ্যে ঠেলে দেওয়া, কম বরাদ্দ দিয়ে কৃষিকে ধ্বংস করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করা হয়েছে। এ বাজেট গরিব মানুষের সুবিধা কমিয়ে ধনীদের সুবিধা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বৃদ্ধির বাজেট, সর্বোপরি এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লূটপাটকারীদের আরও সুযোগ বৃদ্ধির বাজেট। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আগের মতোই থেকে গেছে, যা জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক নয় শতাংশ। এ বাজেট লুটপাটকারী, ধনিকশ্রেণি ও আমলাতন্ত্রনির্ভর অর্থনৈতিক দর্শনের আলোকে প্রস্তুত এবং তাদেরই স্বার্থরক্ষা করা হয়েছে। তাই সমালোচনা এড়াতে তড়িঘড়ি করে এ ধরনের বাজেট পাস করেছে সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। অথচ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাজেট ছিল মাত্র ৪০২ কোটি টাকা। বিএনপি সরকারের শেষ অর্থবছরের তুলনায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খরচ বেড়েছে সাড়ে নয়গুণ। অর্থমন্ত্রী সরকারি ব্যয় হ্রাস করার যে ঘোষণা বাস্তবায়ন করছে, এটি তার একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত মাত্র।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময়ে দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘকাল যে মন্দা থাকবে তাতে মানুষের আয় এবং অভ্যন্তরীণ ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে রাজস্ব আয়ে চরম ঘাটতি তৈরি হবে। তাই বলা যায়, এ ঘাটতি গিয়ে ঠেকবে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকায়। ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের মূল পদক্ষেপ হবে ঋণ করা। বাজেটেই উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যেটি শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণে গিয়ে দাঁড়াবে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের এ অকল্পনীয় পরিমাণ টাকা ধারের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ একেবারে শূন্যের কোঠায় চলে আসবে, যা কর্মসংস্থানের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেবে। এতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না, তাই সরকারকে বিপুল পরিমাণের নতুন টাকা ছাপাতে হবে। তকণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি তৈরি করে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে প্রচ-ভাবে দুর্বল করে দেবে, যার ফল হবে মারাত্মক।’

বাজেট পাসের পরদিন অর্থমন্ত্রীর লন্ডনে যাওয়ার কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেড় লক্ষাধিক মানুষ করোনায় আক্রান্ত, বহু মানুষ মারা গেছে, টেস্ট করতে পারছে না, কিটের অভাব, হাসপাতাল ও অক্সিজেনের অভাবে রোগীরা মারা যাচ্ছে। আর এ মুহূর্তে অর্থমন্ত্রী বিদেশে গেলেন, এটি জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া আর কিছু না।’ করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় ফি নির্ধারণের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বলেছিলÑ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে সে একজন সরকারি রোগী। অথচ সংক্রমণ যখন বৃদ্ধি পেল এমন সময়ে সরকার করোনা টেস্ট ফি ২০০ ও ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে, এটি সারাবিশ্বেই বিরল। এর উদ্দেশ্য একটাই, টেস্টকে নিরুৎসাহিত করা। এটি (ফি) মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো।’

advertisement
Evaly
advertisement