advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাম জোটের বিক্ষোভ
আধুনিকায়ন করলে পাটকলে শ্রমিক ছাঁটাই লাগত না

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৪৪
advertisement

বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, আশির দশকের পর থেকে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের পরামর্শে দেশে একের পর এক পাটকল বন্ধ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, বিশ্বে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। তাই ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের যন্ত্রাংশ আধুনিকায়ন করলে শ্রমিক ছাঁটাই নয়, বরং নতুন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পাটকল আধুনিকায়ন করার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের

বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিমত দেন তারা।

সমাবেশে জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, আশির দশকে ৮২টি পাটকল ছিল জুট মিল করপোরেশনের অধীনে। কিন্তু পরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সারা দুনিয়ার নয়া উদারনীতিবাদের পরামর্শ হিসেবে সারাদেশে কাঠামোগত সমন্বয়ের কথা বলল। বাংলাদেশে পরামর্শ দিল, তোমরা বাংলাদেশের পাট খাত সমন্বয় কর। অর্থাৎ পাট খাত বন্ধ কর। ভারতকে বলল, তোমরা পাট খাতের উন্নয়ন কর। আমাদের ২৫ কোটি দিল, আর ভারতকেও ২৫ কোটি দিল। ভারতকে বলল, নতুন নতুন পাটকল কর। বিশ্বব্যাংকের সাম্রাজ্যবাদী পরামর্শে সরকার একে একে পাটকলগুলো বন্ধ করা শুরু করল। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর যন্ত্রাংশগুলোর ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার এবং প্রতিস্থাপন (বিএমআরই) করতে পারলে উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি করা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, ‘সেই ৫১ সালে, ৫৪ সালে কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি। সে কারখানার যন্ত্রপাতি এত দিন চলে? সেগুলোকে বিএমআরই করা হয় না। আর বিএমআরই করলেও সেগুলো এখন আর নতুন হবে না। যন্ত্রপাতির উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ টন ছিল, কমতে কমতে ৯ টনে নেমে এসেছে। কাজেই ৯ টন উৎপাদন ক্ষমতা দিয়ে কেমনে এই পাটশিল্প রক্ষা করবে? স্কপের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় করে আধুনিকায়ন করতে, তাতে উৎপাদন তিন গুণ হতো। শ্রমিক ছাঁটাই করতে হতো না। তখন নতুন শ্রমিক নিয়োগ করা লাগবে।’

সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক বলেন, ‘সরকারি পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে লক্ষ লক্ষ পাট চাষি সস্তায় পাট বিক্রি করতে বাধ্য হবে।’ কাঁচা পাট রপ্তানির বিরোধিতাও করে হামিদুল হক বলেন, ‘কোনো আহাম্মকও শিল্পের কাঁচামাল পাট বিক্রি করে না। শিল্পের কাঁচামাল কোথায় রপ্তানি হয়? বাংলাদেশের পাট রপ্তানি হয় চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানে। আমরা কেন কাঁচা পাট রপ্তানি করব?’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের পর বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে যান। পরে শাহবাগ মোড়ে পুলিশ বাধা দিলে সেখানে পদযাত্রা থামিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন বাম নেতারা।

advertisement