advertisement
advertisement

মারা গেলেন রাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক

উপসর্গে মৃত্যু আরও ১১

আমাদের সময় ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৫৯
advertisement

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলাম (৮২) মারা গেছেন। তিনি রাবির ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ড. ফখরুল ইসলামের বাড়ি নগরীর কাজিহাটা এলাকায়।

রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর দুপুরেই তিনি মারা যান। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নমুনা পরীক্ষার পরই বলা যাবে। এ জন্য মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আপাতত স্বাস্থ্যবিধি মেনে মরদেহ দাফনের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লায় ৫, গোপালগঞ্জে ২, রাজশাহীতে ১, কক্সবাজারে ১, কুড়িগ্রামে ১ ও বরগুনায় ১ জনের মৃত্যু হয়। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

রাজশাহী : ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. ফখরুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৮ সালে, কলকাতায়। তার বাবা মীর আহমদ হোসেন প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে ড. ফখরুল ইসলামও শিক্ষকতা শুরু করেন। গবেষণা কার্যক্রম চালাতে গিয়ে তিনি নিজেকে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আর্সেনিক নিয়ে গবেষণায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

ড. ফখরুল ইসলাম ২০০৩ সালের দিকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হন। তবে ২০০৫ সাল থেকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যান না। তার দুই ছেলে। একজন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্যজন একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা।

ছেলে অধ্যাপক ড. মোনতাজুল ইসলাম জানান, গত ২৯ তারিখ থেকে ড. ফখরুল ইসলাম জ্বরে ভুগছিলেন। হঠাৎ বৃহস্পতিবার সকালে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এর পরই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু দুপুরেই তিনি মারা যান। ড. মোনতাজুল ইসলাম বলেন, তার বাবা বাসার বাইরে যেতেন না। তাই করোনার কারণে জ্বর হতে পারে বলে তারা মনে করেননি। এখন নমুনা পরীক্ষার পরই বিষয়টি জানা যাবে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বুধবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে রামপদ নামে এক ব্যক্তির চিকিৎসাধীন মৃত্যু হয়। তিনি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার বিকালে হাসপাতালে ভর্তি হন।

কুমিল্লা : কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। গতকাল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন এ তথ্য জানান। মৃতরা হলেনÑ কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ার নাবিল, চান্দিনার ইউসুফ আলী, দেবিদ্বারের তালতলা গ্রামে হাজী জব্বার, সদর উপজেলার বলরামপুরের রিনা আক্তার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুদু মিয়া।

গোপালগঞ্জ : জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজন ও উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। শহরের মৌলভীপাড়ার বাড়িতে করোনা আক্রান্ত মো. লুৎফর রহমান খান গতকাল ভোর ৩টার দিকে মারা যান। করোনার উপসর্গ নিয়ে সকালে মারা যান সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মোতালেব ও চরমানিকদহ গ্রামের দীপঙ্কর।

বেতাগী (বরগুনা) : বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী গ্রামের আবদুল ওহাব বুধবার রাত ১০টায় নিজ বাড়িতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার বুকে, ঘাড়ে ও মাথায় ব্যথা ছিল। ছিল হাঁচি, কাশি ও জ্বর।

কুড়িগ্রাম : রৌমারী উপজেলার পাখিউড়া গ্রামের গৃহবধূ সাবিনা বেগম করোনার উপসর্গ নিয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান। তিনি ওই গ্রামের আবদুর রশীদের মেয়ে। গাজীপুরে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা নিয়ে গত ২৫ জুন গাজীপুর থেকে বাড়িতে আসেন তিনি।

কক্সবাজার : শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান কক্সবাজার জেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী সুভাষ হালদার। তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার জানেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

advertisement
Evaly
advertisement