advertisement
advertisement

বান্দরবানে দুই ভাইকে হত্যা করল পাড়াবাসী

আমাদের সময় ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৫৯
advertisement

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় দুই ভাইকে পিটিয়ে ও পটুয়াখালীতে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে রাস্তার সীমানা নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন এক ব্যক্তি। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

বান্দরবান : রুমা উপজেলার রেমাক্রিপ্রাংসা ইউনিয়নের দুর্গম সাক্রাইতং হ্লাচিং পাড়ায় মঙ্গলবার বিকালে এলাকাবাসী পিটিয়ে হত্যা করে দুই ভাই থোয়াইবাঅং মারমা ও ক্যসুইথোয়াই মারমাকে। তারা তাইংরাগ্র পাড়ার থোয়াহ্লাচিং মারমার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত মঙ্গলবার পাড়ার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে নিহত দুই ভাই সামান্য ঘটনা নিয়ে এক পাড়াবাসীকে কুপিয়ে জখম করেন। এতে পাড়াবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের গণধোলাই দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। তবে নিহতদের ছোট ভাই ক্যমংহ্লা মারমা অভিযোগ করেন, হ্লাচিং পাড়া এলাকায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে পাড়াবাসী দুজনের মধ্যে ঝগড়া ও বাগবিত-া হয়। তার এক ভাই ঝগড়া থামাতে গেলে একজন বয়স্ক লোক মাটিতে পড়ে যান। এর পর রটানো হয় পাড়ার মুরব্বির গায়ে হাত তুলেছে। তখন সেখানে উপস্থিত লোকজন তার দুই ভাইকে বেধম প্রহার করে বেঁধে রাখে। পরে তারা সেখানে মারা যায়।

আর পাড়াবাসীর অভিযোগ, ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাড়াবাসীদের ওপর হামলা করে। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে র‌্যাবের একটি দল ওই পাড়ায় অভিযান চালিয়ে নিহত দুই ভাইয়ের পপি বাগান ধ্বংস করে। তাদের ধারণা, পাড়াপ্রধান র‌্যাবকে খবর দিয়ে তাদের পপি বাগান ধ্বংস করান। তাই পাড়াবাসীর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ওই দুই ভাই। তারা বিভিন্ন সময় পাড়ার মানুষকে নির্যাতন করত। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল পাড়াবাসী।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাসেম জানান, হ্লাচিং পাড়ায় দুই ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধারে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি মঙ্গলবারের হলেও বুধবার বিকালে

পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। এলাকাটি মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন এবং দুর্গম হওয়ায় ওই দিন লাশ উদ্ধার করা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার লাশ নিয়ে আসা হচ্ছে।

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) : চুনারুঘাটে রাস্তার সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হাতে জিতু মিয়া নামে এক ব্যক্তি খুন হন। তিনি কেউন্ডা গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল হেকিমের ছেলে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাস্তার সীমানা নিয়ে জিতু মিয়ার সঙ্গে তার ভাতিজা জিয়াউদ্দিনের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গতকাল সকাল ৯টার দিকে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় প্রতিপক্ষের রডের আঘতে জিতু মিয়া ঘটনাস্থলেই খুন হন।

পটুয়াখালী : সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার ভেতরে গতকাল সকালে মামুন হাওলাদার নামে এক ব্যবসায়ীর রক্তাক্ত শরীর দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। নিহত মামুন পটুয়াখালী পৌর নিউমার্কেটে নাজ সুজ নামে একটি দোকান রয়েছে। তিনি মিঠাপুরের মৃত সোহরাব হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকালে সরকারি নির্দেশনা মেনে দোকান বন্ধ করে শহর সংলগ্ন বাড়িতে ফেরে মামুন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি স্ত্রীকে বলে বাইরে বের হন। গভীর রাত পর্যন্ত মামুনের জন্য অপেক্ষা করে পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তার পরিবার। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সকালে স্থানীয় আনিস মিয়ার পরিত্যক্ত ইটভাটায় কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। তার মাথা ও শরীরে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আখতার মোর্শেদ জানান, ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকা-। কোনো পরিচিত ব্যক্তি পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে হত্যা করে ফেলে গেছে। অপরাধী শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement