advertisement
advertisement

ঢাকা উত্তরে কমছে পশুর হাট

সানাউল হক সানী
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৫৯
advertisement

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজধানীতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ইতিমধ্যে যেসব পশুর হাটের অস্থায়ী ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা বাতিল করে নতুন করে স্বল্পসংখ্যক হাটের ইজারা দেওয়া হবে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো হাটের অনুমোদন দেওয়া হবে না। রাজধানীর আশপাশে অপেক্ষাকৃত খোলামেলা জায়গায় বসানো হবে হাট। গতকাল ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম আমাদের সময়কে এসব তথ্য জানান।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, হাট ইজারা দিয়ে হয়তো কোটি টাকা আয় করা যাবে। কিন্তু টাকার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। মানুষ বেঁচে থাকলে ভবিষ্যতে টাকা আসবে। তাই ঢাকার বাইরে তুলনামূলক কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশুর হাটের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্তে হয়তো সিটি করপোরেশন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। কিন্তু মানুষের জন্যই এটি করতে হচ্ছে।

আতিকুল ইসলাম বলেন, একটা হাট ছিল তেজগাঁও এলাকায়। এখানে আমরা ভালো টাকা পেতাম। কিন্তু এবার এখানে হাট বসাব না। দ্বিতীয়ত আফতাবনগরে। এই এলাকায় আমাদের একটা হাট বসে। পাশেই দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটা হাট বসে। যেহেতু একই এলাকায় দুটি হাট বসছে তাই আমি সেখানে হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ডিএনসিসি মেয়র বলেন, উত্তরা ১০, ১১ এবং ১২ এই তিনটি সেক্টরে বড় হাট বসতো। গত বছর এই হাটে ইজারা মূল্য পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু এবার এই হাট হবে না। উত্তরার লোকজন উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন এলাকা থেকে পশু কিনতে পারবেন। এই এলাকায় মানুষের বসবাস কম। আর মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়াসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বছিলার ভেতরে রায়েরবাজার কবরস্থান যেখানে আছে সেখানে একটি হাটের অনুমোদন দিব। এ ছাড়া বাজার থাকবে পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী এবং ১০০ ফুট সড়কের সাইদ নগর এলাকাতে। আগে যেসব দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল তার সবই বাতিল করে নতুন করে ইজারা দেওয়া হবে। গাবতলী স্থায়ী পশুর হাট থাকবে জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা ঢাকার ভেতরে পশুর কোনো হাট না রাখার কথা ভাবছি। আগের দরপত্রগুলো বাতিল করে নতুন করে ঢাকার বাইরে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

ইতিমধ্যে সংস্থাটি যেসব

হাটের দরপত্র আহ্বান করেছিল সেই হাটগুলোর মধ্যে আছে- উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের এক নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশ এবং দ্বিতীয় ব্রিজের পশ্চিম গোল চত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গায়। ভাটারা (সাইদ নগর) পশুর হাট। বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই, সেকশন ৩ এর খালি জায়গা। মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়ক সংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনের খালি জায়গা। মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড নম্বর ৬ এর খালি জায়গা। উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা। কাওলা শিয়াল ডাঙা সংলগ্ন খালি জায়গা। ভাষানটেক রাস্তায় নির্মাণাধীন অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অংশ এবং পাশের খালি জায়গা। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উত্তর পাশের খালি জায়গা ও উত্তরখান মৈনারটেক শহিদনগর হাউজিং আবাসিক রাজধানীর ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কল্পের খালি জায়গা।

advertisement
Evaly
advertisement