advertisement
advertisement

৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণের পূর্ণাঙ্গ রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২২:৫৯
advertisement

সারাদেশে দায়িত্বরত ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের চাকরি জাতীয়করণ করতে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে। রায়ে গ্রাম পুলিশের মধ্যে দফাদার পদধারীদের ১৯তম গ্রেড এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেডে তাদের বেতন-ভাতা ২০০৯ সালে ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেল (বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫) অনুযায়ী প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ এই রায়ে গ্রাম পুলিশদের ২০১১ সালের ২ জুন থেকে সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এটা কাচের মতো স্পষ্ট যে, গ্রাম পুলিশ ও মহল্লাদাররা ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক নিয়োগ পেয়ে প্রজাতন্ত্রের ৭০ প্রকার কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকেন। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয়ের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে তারা নিয়োজিত। ঝড়-বৃষ্টি, বিপদাপদ উপেক্ষা করে তারা বাংলার সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকেন। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কাকে বলে তারা জানেন না।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু বলেছেন, দুনিয়া দুই ভাগে বিভক্ত, নিপীড়িত ও অত্যাচারী। আমি নিপীড়িতের সঙ্গে আছি। বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ মোতাবেক নিপীড়িতের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের অবস্থান। রায়ে ২০১১ সালের ২ জুনের পর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা-২০১১ বহির্ভূত গ্রাম পুলিশ পদে যে কোনো নিয়োগ অবৈধ ও বাতিল হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চের গত বছর ১৫ ও ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশ্য আদালতে এ রায় ঘোষণা করেছিলেন; যার লিখিত কপি সুপ্রিমকোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয় বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানান গ্রাম পুলিশদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব।

ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বরত লাল মিয়া, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়ন পরিষদে মহল্লাদার হিসেবে দায়িত্বরত মো. সাইদুর দেওয়ানসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে দফাদার ও মহল্লাদার হিসেবে দায়িত্বরত ৩৫৫ জন গ্রাম পুলিশের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রায় দেন।

হুমায়ুন কবির পল্লব জানান, সারাদেশে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দফাদার পান সাত হাজার টাকা এবং একজন মহল্লাদার পান সাড়ে ৬ হাজার টাকা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাদের চাকরি চতুর্থ শ্রেণিভুক্ত করতে ২০০৮ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব পাঠায়। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তাদের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ ভুক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে এ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত বিধিমালা করা হয়। কিন্তু এ বিধিমালায় তাদের চাকরি কোন শ্রেণিভুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এর ধারাবাহিকতায় রিট করা হলে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।

advertisement
Evaly
advertisement