advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেয়েবন্ধু সেজে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ৩ বিদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ১৪:০৭
প্রতীকী ছবি
advertisement

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মেয়েবন্ধু সেজে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন বিদেশি নাগরিক। শুধু ফয়সালই নয়, ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে উপহার দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন কেনিয়া ও ক্যামেরুনের বংশোদ্ভূত সোলেমান ওরফে নিগুয়েগাং তেগোমো বারটিন (৪৭), নিগুয়েনাং তোবোসেরগে ক্রিস্টিয়ান (৩৮) এবং একোঙ্গো এরনাস্ট ইব্রাহিম (৪২)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার দিনগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগের প্রধান ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার।

তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফেসবুকে ফেক আইডি এবং নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা বন্ধুত্ব তৈরি করেন। এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দামি গিফট পাঠান এবং সেটি কাস্টমসে আটকে আছে, ছাড়িয়ে আনতে হবে বলে মোটা অঙ্কের টাকা চান। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কেউ কাস্টমসের কর্মকর্তা অথবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা কাজে সহায়তা করেন।

প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যরা নারী সেজে ফেক আইডি ব্যবহার করে ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। চক্রের এক সদস্য নিজেকে আমেরিকান পরিচয় দিয়ে আরিফুলকে কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে উপহার পাঠাবে বলে জানান। এর পর আরিফুলকে উপহার সামগ্রী পাঠানোর কথা বলে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। সর্বমোট তার কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেয় চক্রের তিন সদস্য। ভুক্তভোগী আরিফুল রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেছেন।

ডিআইজি রেজাউল হায়দার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আক্রমণাত্মক। অভিযান চলাকালে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন। আমরা জানতে পেরেছি, তারা ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের কারও কাছেই পাসপোর্টের কোনো কপি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ নেই। অবৈধভাবে তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব এবং তাদের চক্রে আর কোনো সদস্য আছে কিনা খুঁজে দেখব। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কিনা তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

অভিনব এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এমন কতজন আফ্রিকান নাগরিক বাংলাদেশে আছেন- এ বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, সুনির্দিষ্ট করে আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। তবে যারাই এ প্রতারণা করছে, তারা সবাই একই গ্রুপের নয়। দুজন, তিনজন অথবা পাঁচজন করে একেকটি গ্রুপে এ প্রতারণামূলক কর্মকা-গুলো হচ্ছে। নিশ্চিত করে কতগুলো গ্রুপ আছে, সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।

 

 

advertisement