advertisement
advertisement

‘আউট সুইং শেখার চেষ্টা করব’

সুসান্ত উৎসব
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

বোলিংয়ে তার বিশেষ অস্ত্র লেগ কাটার। বাংলাদেশের নতুন পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের কাছ থেকে আউট সুইংটা শেখার চেষ্টা করবেন আল-আমিন হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিপিএল খেলার সময় ওটিসের সঙ্গে কিছু কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া সেভাবে কোনো কাজ করার সুযোগ হয়নি। এর মধ্যে আবার করোনা ভাইরাস শুরু হলো। এখন তো সবাই ঘরবন্দি। খেলা আবার মাঠে গড়ালে নতুন কোচের সঙ্গে আউট সুইং নিয়ে কাজ করার ইচ্ছে আছে।’

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখেন আল-আমিন। ছুটির এ সময়টা ফিটনেস ঠিক রাখতে বিসিবির দেওয়া গাইডলাইন অনুসরণ করছেন। ফিটনেসে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে নাম্বার ওয়ান হতে চান জাতীয় দলের এ ডানহাতি পেসার। ৭ টেস্টে ৯টি, ১৫ ওয়ানডেতে ২২টি এবং ৩১ টি-টোয়েন্টিতে ৪৩ উইকেট শিকার করা আল-আমিন বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ফিটনেসটাই মূল চ্যালেঞ্জ। ফিটনেস যদি ভালো থাকে এবং পারফর্ম যদি করি তা হলে এখনো কিন্তু সুযোগ আছে। ফিটনেস ভালো থাকার কারণেই কিন্তু আমি আবারও দলে সুযোগ পেয়েছি। ফিটনেস ঠিক রাখা আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।’

২০১৫ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলেছিলেন। এর পর ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়েই আবারও দলে ফিরেছেন। মাঝের সময়টা ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে অনেক মিস করেছেন আল-আমিন। তিনি বলেন, ‘দলের বাইরে থাকার সময়টা অবশ্যই জাতীয় দলকে মিস করি। এখন খেলা বন্ধ। এখনো তো মিস করছি। আমি সবসময়ই খেলতে চাই। ফর্ম, ইনজুরি বা যে কোনো কারণে হয়তোবা একজন প্লেয়ার কখনো দলে থাকে আবার কখনো থাকে না। চেষ্টা করছি নিজেকে ফিট রাখার। যখনই দলে সুযোগ পাব যেন জয়ে অবদান রাখতে পারি।’

স্কোয়াডে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলা হয়নি আল-আমিনের। দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল তাকে। অবশ্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে না পারায় কোনো আক্ষেপ কাজ করে না ঝিনাইদহ থেকে উঠে আসা এ পেসারের। এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আল-আমিন বলেন, ‘কোনো কিছুতেই আমার আক্ষেপ কাজ করে না। সব কিছু ইতিবাচকভাবে চিন্তা করি। এখনো কিন্তু কিছুই শেষ হয়ে যায়নি। সামনে ২০২৩ বিশ্বকাপ আছে। সব কিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তা হলে ২০২৩ বিশ্বকাপেও তো খেলতে পারি! তাই না?’

নিজেকে টি-টোয়েন্টি ‘স্পেশালিস্ট’ বলে মনে করেন না আল-আমিন। এ ফরম্যাটে বেশি খেলার সুযোগ পেয়েছেন বলে উইকেট সংখ্যাটাও বেশি। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ বেশি পেয়েছি। আমার ওয়ানডে রেকর্ডও কিন্তু ভালো। যে কটা টেস্ট খেলেছি অধিকাংশই দেশের মাটিতে। টি-টোয়েন্টিতে আমি বেশি সুযোগ পেয়েছি তা কাজে লাগানোর চেষ্টাও করেছি।’ তিন ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলতে চান এ পেসার, ‘আমার তিন ফরম্যাটই পছন্দের। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, কোনো ফরম্যাটই আমি ছাড়তে চাই না। সব ফরম্যাটেই খেলতে চাই এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে চাই।’

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা সহজ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বেড়েছে। মোস্তাফিজ, রুবেল, তাসকিন, শফিউল, রাহীরা আছেন। আল-আমিন বলছেন, বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়াটা সবসময় চ্যালেঞ্জিং। এ জন্য ফিট থাকাটা জরুরি। তিনি মনে করেন, ফিটনেস যদি ভালো থাকে এবং পারফর্ম যদি করি তা হলে এখনো কিন্তু সুযোগ আছে।

আল-আমিন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স, ব্রেট লি, ভারতের সামি, বুমরাÑ তাদের বোলিং ইউটিউবে দেখেন তিনি। তার মাঝেমধ্যে মনে হয় ইস! যদি ১৫০ গতিতে বল করতে পারতাম! আল-আমিন বলেন, ‘ওদের দেখে মনে হয় আমি যদি বাংলাদেশের হয়ে ১৫০ গতিতে সবসময় বল করতে পারতাম! একটা আফসোস, ওরা বল করলে ১৫০-এ করতে পারে, আমরা কেন পারি না?’

ক্যারিয়ার নিয়ে আল-আমিনের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ‘আমি অনেক বেশিদূর চিন্তা করি না। যেমন আমাদের সামনে এখন করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করছি। পাশাপাশি ফিটনেস কীভাবে টিক রাখা যায় তা নিয়ে ভাবছি। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। টি-টোয়েন্টি নিয়ে চিন্তা করছি। আমার প্লানগুলো ৩-৬ মাস, এ রকম। আমার চিন্তা আমি ফিট থাকব, ক্রিকেট খেলব। যতজন পেসার আছে সবার মধ্যে ফিটনেসে আমি নাম্বার ওয়ান হতে চাই।’

advertisement
Evaly
advertisement