advertisement
advertisement

চলে গেলেন স্যার এভারটন উইকস

ক্রীড়া ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৮
advertisement

ক্রিকেট মাঠে অনেক সেঞ্চুরি করেছেন, দাপুটে ব্যাটিংয়ে নিজেকে তুলেছেন অন্যরকম উচ্চতায়। জীবনের মাঠেও সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় ছিলেন স্যার এভারটন উইকস। তবে ৯৫-তেই থামল তার জীবনের ইনিংস। ৯৫ বছর বয়সে বার্বাডোজে নিজ বাড়িতে মারা গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার। গত বছরের জুনে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর সংকটাপন্ন জীবন পার করছিলেন তিনি। বুধবার সেই লড়াইয়ের অবসান হয়ে গেছে। দুই সাবেক সতীর্থ স্যার ক্লাইড ওয়ালকট এবং স্যার ফ্র্যাঙ্ক ওরেলের ঠিকানায় পাড়ি জমালেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ‘থ্রি ডব্লিউ’-এর শেষজন স্যার এভারটন উইকস। ১৯৪৮ সালে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ‘থ্রি ডব্লিউ’ স্যার ক্লাইড ওয়ালকট, স্যার ফ্র্যাংক ওরেল এবং স্যার এভারটন উইকসের। তাদের তিনজনেরই জন্ম বার্বাডোজে। একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, ১৯২৪ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ওয়ালকট, ওরেল এবং উইকসের ধাত্রী মাও ছিলেন একই নারী। আর পর তো ক্রিকেট বিশ্বই দেখেছে এ তিন ডব্লিউয়ের তা-ব। প্রথম দুজন অর্থাৎ ওয়ালকট (২০০৬) ও ওরেল (১৯৬৭) মারা গেছেন আগেই। বুধবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন স্যার উইকস। তিন ডব্লিউয়ের সবাই দুর্দান্ত ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন। ক্যারিবীয়দের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক হয়েছিলেন ওরেল। পরে জ্যামাইকার সিনেটর হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে ওয়ালকটের গড় ছিল ৫৬.৬৮। যিনি পরে আইসিসি প্রথম অশ্বেতাঙ্গ প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। তবে তাদের দুজনের চেয়েও তর্কাতীতভাবে সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন এভারটন উইকস। ১৯৪৮ অর্থাৎ অভিষেকের বছরেই মার্চ থেকে ডিসেম্বরের ভেতরে টানা পাঁচ টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। ষষ্ঠ টেস্টে আম্পায়ারের ভুলে আউট হন ৯০ রান করে। মাত্র ১২ ইনিংসে পূরণ করেছিলেন ক্যারিয়ারের ১০০০ রান। এর চেয়ে দ্রুত আর কেউ এই মাইলফলকে পৌঁছতে পারেননি। ক্যারিয়ার শেষে ৪৮ টেস্টে ১৫ সেঞ্চুরি ও ১৯ হাফ সেঞ্চুরিতে ৫৮.৬১ গড়ে ৪৪৫৫ রান করেন উইকস। টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত ২০ ইনিংস ব্যাট করা ক্রিকেটারদের মধ্যে উইকসের গড় দশম সর্বোচ্চ। উইকসের ব্যাটিংয়ের মধ্যে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ছায়া দেখতে পেতেন অনেকেই। ১৯৫১ সালে উইজডেনের বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মান পান এভারটন উইকস। পরে ১৯৯৫ সালে ক্রিকেটে অবদানের জন্য নাইটহুড উপাধি লাভ করেন তিনি এবং নামের সামনে যোগ হয় ‘স্যার’ শব্দটি। খেলোয়াড়ি জীবনে তার বাকি দুই সঙ্গী ওয়ালকট ও ওরেল সমাহিত আছেন বার্বাডোজের ‘থ্রি ডব্লিও’ ওভালে। সেখানে উইকসের জন্যও একটি জায়গা রাখা আছে। বাকি দুই সতীর্থের সঙ্গী হিসেবে সেখানেই আশ্রয় হতে পারে তার। উইকসের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ‘আমরা আইকনকে সম্মান জানাচ্ছি। স্যার এভারটন তার অঞ্চল এবং দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অমূল্য অবদান রেখেছেন। তাকে পেয়ে আমরা ধন্য ছিলাম। তার আত্মা শান্তিতে ঘুমাক।

advertisement
Evaly
advertisement