advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তৈরি পোশাকশিল্পে রপ্তানি কমেছে ৬ বিলিয়ন ডলার

করোনার প্রভাব

আব্দুল্লাহ কাফি
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২৩:৫১
advertisement

চলমান বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের কামড়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। রপ্তানির ছুটেছে তলানিতে। গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য মে মাসের তুলনায় জুনে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভসের মতো সুরক্ষাসামগ্রীর। আগে এসব সামগ্রীর বাজার চীনের দখলে থাকলেও আমদানিকারকরা চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশের সামনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্য রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে তথ্যের ভিত্তিতে বিজিএমইএ জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ডলার। করোনা ভাইরাস মহামারী সব হিসাব-নিকাশ বদলে দেয়। খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধ ছাড়া অন্য সব খাতে ভোগ ব্যয় একেবারেই কমে যায়। ভয়াবহ অবস্থায় পড়ে পোশাকের বাজার। কয়েকটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেন এবং বাকি ব্র্যান্ডগুলো টিকে থাকতে দোকানপাট বন্ধ রাখে। এতে করে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। শুধু এপ্রিল মাসেই গত অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি কমে ২২০ কোটি ডলারের মতো। গত এপ্রিলে যেখানে রপ্তানি হয়েছিল ২৫৪ কোটি ডলারের পণ্য, সেখানে সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের এপ্রিলে রপ্তানি হয় মাত্র ৩৭ কোটি ডলারের পণ্য।

অবশ্য আশার কথা হচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন তুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তাই পোশাক রপ্তানি মে ও জুন মাসে বেড়েছে। মে মাস থেকে রপ্তানি পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতা জুনেও অব্যাহত ছিল। মে মাসে রপ্তানি হয় ১২৩ কোটি ডলারের পণ্য। আর জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২ কোটি ডলারে।

তথ্য মতে, অর্থবছর বিবেচনায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পোশাক পণ্যের মোট রপ্তানি ছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলারের। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ হাজার ৭৮৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। এ হিসাবে সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

বাংলাদেশে করোনা প্রকোপ শুরুর দিকে বিজিএমইএ জানায়, করোনার কারণে প্রায় সোয়া তিনশ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এসব কারণে কিছু ছোট পুঁজির

কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধও হয়ে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামীতে আরও বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁঁকিতে রয়েছে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফয়সাল সামাদ আমাদের সময়কে বলেন, জুন মাসে যে রপ্তানি হয়েছে তা আগের অর্ডার। নতুন করে তেমন অর্ডার আসছে না। মূলত করোনার যে প্রভাব তা বাস্তবে রূপ দেবে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে। এখন যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে আগের অর্ডার দেওয়া অথবা যেসব অর্ডার ক্রেতারা ক্যানসেল করেছিল সেগুলো আবার ফিরিয়ে নিচ্ছে এ কারণেই রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

advertisement