advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দমনপীড়ন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে পুলিশকে : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২৩:৫১
advertisement

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘জনগণের পুলিশ হতে হলে জনগণকে ভালোবাসতে হবে। তাদের জন্য কাজ করতে হবে, কাছে যেতে হবে। দমনপীড়ন থেকে বেরিয়ে এসে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে সব ধরনের দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে না। মাদকমুক্ত পুলিশ তথা দেশ গড়ে তুলতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে ‘ইনোভেশন অ্যান্ড বেস্ট প্র্যাকটিস’ শাখা আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পুলিশকে জনবান্ধব, আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করার

লক্ষ্যে বাহিনীটির সব পর্যায়ের সদস্যদের মতামত গ্রহণবিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে কনস্টেবল থেকে ইন্সপেক্টর পর্যন্ত সব পদমর্যাদার পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য উত্তম চর্চা, ক্যারিয়ার, দুর্নীতি, ওয়েলফেয়ারসহ অন্যান্য বিষয়ে লিখিত মতামত দিয়েছেন।

বর্তমান করোনাকালে পুলিশের ভূমিকা উল্লেখ করে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের প্রথম দিন থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ সদস্যরা জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর জন্য পর্যন্ত অপেক্ষা করেননি। ফলে অনেক পুলিশ সদস্য নিজের অজান্তেই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন সম্মুখযোদ্ধা ৪৪ পুলিশ সদস্য।’ আইজিপি বলেন, ‘আমরা করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালকে মাত্র দুই সপ্তাহে ২৫০ থেকে ৫০০ বেডের কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় ঢাকায় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন একটি হাসপাতাল ভাড়া করা হয়েছে। করোনা পরীক্ষার জন্য মাত্র ১২ দিনে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালেও কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের মতো একই প্রটোকলে করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা করা হচ্ছে। ফলে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন, মৃত্যুর হারও কমছে।’

চলমান করোনায় জনগণের সেবায় পুলিশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনাকালে পুলিশ যেভাবে জনগণের কাছে গিয়েছে, তাদের পাশে থেকেছে, তাদের সুরক্ষা দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশংসা করছে। পুলিশপ্রধান হিসেবে এ জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’ তিনি বলেন, ‘করোনায় পুলিশ শুধু কোয়ারেন্টিন, লকডাউনই বাস্তবায়ন করেনি। অসহায় মানুষের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন স্বজনরা কেউ এগিয়ে আসেনি, তখন পুলিশ তাদের জানাজার আয়োজন, দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। এসব দায়িত্ব পুলিশের নয়, পুলিশকে এ দায়িত্ব দেওয়াও হয়নি। কিন্তু পুলিশ কেন এটি করেছে? পুলিশ কাজটি নিজেদের মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে করেছে। এ জন্য মাত্র তিন মাসে পুলিশ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫০ বছর আগে মহান মুক্তিযুদ্ধ দেশ সেবায় পুলিশের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করেছিল। ৫০ বছর পর করোনা আবার জনগণের কাছে যাওয়ার একটা সুযোগ নিয়ে এসেছে।’ প্রশ্ন রেখে আইজিপি বলেন, ‘এক সময় করোনা চলে যাবে, তখন কী হবে? আমরা কি আগের অবস্থায় ফিরে যাব? কিন্তু না, আমরা যেখানে গিয়েছি সেখান থেকে আর ফিরে আসব না। সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাব। মানুষের ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা কেনা যায় না, অর্জন করতে হয়।’

advertisement
Evaly
advertisement