advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঘরে বসে কাক্সিক্ষত দামে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা

মূল্য বেশি থাকায় বিপাকে সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য বিভাগ

বিন্দু তালুকদার সুনামগঞ্জ
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ১০:৪২
advertisement

গত মৌসুমে সুনামগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বোরোজাতীয় ধানের দামও অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বাড়িতে বসেই কাক্সিক্ষত দামে ধান বিক্রি করছেন কৃষকরা। এতে সব শ্রেণির কৃষকরাই খুশি। তবে হাওরে বোরো ধানের মূল্য বেশি থাকায় বিপাকে পড়েছে খাদ্য বিভাগ।
ধান-চাল ক্রয়ের সময়সীমার চার মাসের মধ্যে দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশও কিনতে পারেনি সুনামগঞ্জ খাদ্য বিভাগ। অবশ্য খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, ধান-চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
সুনামগঞ্জে এবার প্রায় ১৩ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। সরকার ধান কিনবে মাত্র ৩২ হাজার ২৬৪ টন। জেলায় এমন বাম্পার উৎপাদনের পরও খাদ্য বিভাগ ২৯ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৬ হাজার ১৯১ টন ধান কিনেছে। সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ২৯ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৯২০ থেকে ৯২৫ টাকা এবং ২৮ জাতের ধান বিক্রি হয়েছে ৯৪৫ থেকে ৯৫০ টাকা মণ দরে। মোটাজাতীয় ধান বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮২৫ টাকা দরে।
জামালগঞ্জের হালীর হাওরপারের কৃষক ও বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মশিউর রহমান বলেন,

এবার কৃষকরা বাড়িতেই ভালো দামে ধান বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছেন। বাড়িতে ধান বিক্রি করলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাওয়া যায়। সরকারি গোদামে ধান বিক্রি করতে ট্রলার ও গাড়ি ভাড়া, লেবার খরচসহ নানা ধরনের খরচ হয়। টাকাও সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। ২৮ জাতের ধান ৯৫০ ও ২৯ জাতের ধান ৯২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মনে হয় এবার সরকার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে না।’
হাওরখ্যাত শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলামিন চৌধুরী বলেন, আমি একজন বড় কৃষক। মঙ্গলবার আমি ৮২৮ টাকা মণ দরে বাড়িতেই ৪০০ মণ হীরা ধান বিক্রি করেছি। খাদ্য গুদামে ধান নিয়ে গেলে ময়েশ্চার, কম শুকনা ইত্যাদি নানা কথা বলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়রানিও করা হয়। গুদামে ধান নিতে পরিবহন খরচও লাগে। এ জন্য ধান কৃষকরা গুদামে নিয়ে যেতে আগ্রহী নয়। ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে গ্রামে গিয়ে ধান কিনে নিয়ে আসতে হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাকারিয়া মুস্তফা বলেন, আমরা আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা মোতাবেক ধান কিনতে পারব। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬ হাজার ১৯১ টন ধান কেনা হয়েছে। কৃষকদের নানাভাবে জানানো হচ্ছে, তারা হয়রানিমুক্তভাবে ধান দিতে পারবেন। তারা যেন সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে আসেন। বড় কৃষকরা ৬ টন, ছোট কৃষকও ২-৩ টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন।

advertisement
Evaly
advertisement