advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধর্ম
আল্লাহ যাদের প্রতি সন্তুষ্ট

মাহমুদ আহমদ
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২০ ২৩:৫৫
advertisement

বিশ^ময় মহামারী করোনার কারণে যদিও স্বাভাবিক জীবনযাপন কিছুটা কঠিন, তার পরও আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কষ্টকর হলেও একজন মুমিন কখনো তার ইবাদতে কমতি করেন না। সর্বক্ষেত্রে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন, তাদের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের ভেতর এমন লোকও আছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আত্মবিক্রয় (উৎসর্গ) করে থাকে। আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২০৭)।

মুমিন বিপদাপদে কখনো ধৈর্যহারা হন না, বরং আরও বেশি ইবাদতে রত হওয়ার চেষ্টা করেন। ওহুদের যুদ্ধে মুসলমানদের ওপর আক্রমণকারীরা কতই না জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, যা বর্ণনাতীত। আর অন্যদিকে আমরা কী দেখতে পাই, মুসলমানদের ক্ষুদ্র দলটি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি পরম শ্রদ্ধায় অনুপ্রাণিত হয়ে অতুলনীয় বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন।

ওহুদের ময়দানে মহানবী (সা.)-এর শরীর আঘাতে জর্জরিত হয়েছিল, তার পবিত্র দাঁতও এতে শহীদ হয়। তার পরও তিনি তাদের জন্য পরম দয়াময় আল্লাহর কাছে হেদায়াত কামনা করেছেন। ওহুদের ময়দানে তার পবিত্র সাহাবিদের এমন নির্দয়ভাবে আঘাত করে শহীদ করা হয়েছে যে, তাদের মৃতদেহ পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।

এতকিছু হওয়া সত্ত্বেও কোনো সাহাবি ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ত্যাগ করে চলে যাননি, বরং তাদের মনোবল আরও দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছিল। তারা এটা বলেননি যে, আমরা এই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে পারছি না, তাই ইসলাম ত্যাগ করছি। তাদের মনোবল এমন পাহাড়ের মতো ছিল যে, এ পথে নিজ প্রাণ কোরবান করতে সদা প্রস্তুত ছিল। এত কষ্ট সহ্য করা সত্ত্বেও তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করেছেন, রমজানের রোজা রেখেছেন।

এর পর শিবে আবু তালিব উপত্যকায় মহানবী (সা.) ও তার সাহাবায়ে কেরামের বন্দি জীবনের দুর্বিষহ দিনগুলোর ইতিহাসও আমাদের সামনে রয়েছে। সেই দিনগুলোয় তাদের কাছে না ছিল মাল-সামান আর মজুদ খাদ্যসামগ্রী। অবরুদ্ধ অবস্থায় কী যে নিদারুন দুঃখ-কষ্টের মধ্যে তারা কালাতিপাত করেছিলেন, তা কেবল ভুক্তভোগী ছাড়া অন্য কারও পক্ষে কল্পনা করাও দুঃসাধ্য।

এই দুঃসহ অবস্থা চলেছিল প্রায় তিন বছর। খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে গাছের পাতা আর চামড়া খেয়েই সাহাবাদের জীবনধারণ করতে হয়। নারী-শিশুদের কান্নার আওয়াজে বাতাস ভারী হয়ে যেত আবু তালিবের উপত্যকায়। এমন ভয়াবহ সময়ে কেমন কেটেছিল মহানবী (সা.) ও তার সাহাবায়ে কেরামের দিনগুলো? কেমন ছিল সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো? তা মহানবীর (সা.) সাহাবার বর্ণনা থেকেই জানা যাক। হজরত সায়াদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘কোনো এক রাতে একটি শুষ্ক চামড়া পেয়ে তা ভালোমতো ধুয়ে নিলাম। তার পর আগুনে তা গুঁড়া করে নিলাম। পানিতে মিশিয়ে তৃপ্তি নিয়ে খেলাম।’ এ তো শুধু এক সাহাবির অবস্থা ছিল না, বরং সবার অবস্থাই ছিল অকুণ্ঠ শোচনীয়। এই কষ্টের পরিণতিতে মৃত্যুবরণ করেন মহানবী (সা.)-এর বিশ^স্ত সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা.) এবং তার চাচা হজরত আবু তালিব (রা.)।

হায়! আমার দয়াল রাসুল কত কষ্টই না সহ্য করেছেন, তার পরও তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তার প্রভুর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। শিবে আবু তালেবের এ কঠিন পরিস্থিতিতেও সাহাবায়ে কেরাম একবারের জন্যও বলেননি, বর্তমান বৈরী অবস্থায় আমাদের জন্য নামাজ ও রোজাকে মাফ করে দেওয়া হোক।

একটু ভেবে দেখুন! ইসলামের জন্য, আল্লাহর একত্মবাদের জন্য আমাদের প্রিয় মহানবী (সা.) এবং তার সাহাবিরা কতই না কষ্ট সহ্য করেছেন। সেই তুলনায় আমরা কি এর সামান্য পরিমাণও কষ্ট সহ্য করছি?

মহানবী (সা.)-এর এই সাহাবিদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহতায়ালা তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা! তুমি তোমার প্রতিপালকের কাছে ফিরে এসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে। আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো’ (সুরা ফাজর, আয়াত : ২৭-৩০)।

বিপদাপদ যা-ই হোক না কেন, একজন মুমিন তার ইবাদতে কখনই কমতি করে না, বরং কঠিন পরিস্থিতিতে ইবাদত-বন্দেগিতে আরও গতি সৃষ্টি করে। আসুন, সকাতরে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, হে দয়াময় প্রভু! সব বিপদাপদ থেকে আমাদের রক্ষা করো আর আমাদের তওবা কবুল করে তোমার দয়ার চাদরে আবৃত করে নাও, আমিন।

মাহমুদ আহমদ : ইসলামি গবেষক ও কলাম লেখক

advertisement