advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চলচ্চিত্র বাঁচাতে কী করা উচিত

ফয়সাল আহমেদ
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ০০:১২
advertisement

করোনা মহামারীতে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে বাংলা চলচ্চিত্র। এমনিতেও অনেক বছর আগে থেকেই সংকটে আছে ঢালিউড। সিনেমা হল বন্ধ যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। এদিকে সময়মতো শুটিং শেষ করতে না পেরে এবং ছবি মুক্তি না দিতে পেরে প্রযোজকরা পড়েছেন আর্থিক ক্ষতির মুখে। বেকার হয়ে পড়েছেন চলচ্চিত্রশিল্পী ও কলাকুশলীরা। চলচ্চিত্রকে চাঙ্গা করতে তাই কী করা উচিত এ বিষয়ে আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের সঙ্গে। তাদের সবার একটাই কথাÑ সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। আবার ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতা পাওয়া গেলে সংকট কাটিয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে চলচ্চিত্র, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলচ্চিত্রশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে দ্বিধাবিভক্ত না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নায়ক শাকিব খান। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থে প্রকৃত চলচ্চিত্রের লোক যারা তাদের সকলকে এক সাথেই কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস আমার দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকার আমার পাশেই থাকবে।’ চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘চলচ্চিত্রের অবস্থা অনেক আগে থেকেই খারাপ অবস্থায় আছে। এখন আরও খারাপ হয়েছে। আমি শুরু থেকেই একটি কথা বলে আসছি, প্লিজ সবাই একসঙ্গে কাজ করুন। আলাদা আলাদা বসে মিটিং করে কোনো লাভ নেই। আগামী দুই বছরের একটি প্ল্যান করুন। কার কী করতে হবে সেটা ঠিক করুন। আমাকে কী করতে হবে বলুন। এই চলচ্চিত্রের জন্য আমি আজ মৌসুমী। আমারও কিছু দেওয়ার আছে এখানে।’ চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, ‘চলচ্চিত্র কারও একার নয়। এটি একটি টিমওয়ার্ক। তাই সবাই মিলে কাজ না করলে কোনোভাবেই চলচ্চিত্র বাঁচানো যাবে না। আমাদের এখানে অনেক গ্রুপিং আছে। তাদের একীভূত করে কী সমস্যা হয়েছে সেই সমস্যার সমাধান করা জরুরি। না হলে চলচ্চিত্রশিল্পের দারুণ ক্ষতি হবে।’ প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই ছবি নির্মাণ কমে যাচ্ছে। যা অবস্থা, তাতে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী এক বছরে হলের সংখ্যা ১০০-এর নিচে চলে যেতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে আমার নিজের হল মধুমিতাও বন্ধ করে দিতে হতে পারে। লোকসান গুনতে গুনতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এখন সবাই মিলে বসে কাজ করার সময় এসেছে। তা হলে প্রতি মাসে দুটি করে ভালো ছবি আসবে। না হলে হল চালানো সম্ভব নয়।’

চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘১৮ মার্চ থেকেই সব রকম শুটিং, এডিটিং, ডাবিং, সিনেমা হল, ছবি মুক্তি সব বন্ধ আছে। এমনিতেই চলচ্চিত্রের ব্যবসা সারা বছর করেও আমাদের তেমন লাভ হয় না। আমরা মূলত কয়েকটা উৎসবের দিকে তাকিয়ে থাকি। এর মধ্যে ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর, নববর্ষ ও দুর্গাপূজা অন্যতম। এই লকডাউনের মধ্যে আমাদের নববর্ষ ও ঈদুল ফিতর চলে গেল। সিনেমা হলের দরজা না খোলায় আমরা কোনো ছবি মুক্তি দিতে পারিনি। এখন পর্যন্ত সবকিছু মিলিয়ে ৩শ’ কোটি টাকা লোকসান হল আমাদের। সরকারের কাছে আমরা আবেদন করেছি প্রণোদনার জন্য। চলচ্চিত্র বাঁচাতে হলে শিল্পী-পরিচালক-প্রযোজক সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।’ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে পুরো সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি হুমকির মুখে পড়ে গেছে। এই কয় মাসে কম করে হলেও আমাদের প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাই আমরা প্রযোজক সমিতি ও পরিচালক সমিতি একটা মিটিং আহ্বান করেছি। একসঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আলাদা আলাদা বসে কোনো লাভ নেই। চলচ্চিত্রের যে চরম ক্ষতি হয়ে গেল তা থেকে আমরা ফিরে আসতে চাই। এজন্য প্রধানমন্ত্রীও নিশ্চয় আমাদের পাশে থাকবেন। তিনিই পারেন এর থেকে উদ্ধার করতে।’

চলচ্চিত্র বাঁচাতে শিল্পীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পারিশ্রমিক কমানোর কথা। শাকিব খান তার পারিশ্রমিকের তিন ভাগের দুই ভাগ কমিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপাতত আগের সম্মানী নয়। চলচ্চিত্রকে বাঁচাতে নিজের সম্মানী কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি। আমি সহশিল্পীদেরও পারিশ্রমিক কমিয়ে ইন্ডাস্ট্রির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। নায়িকা মাহিয়া মাহি বলেন, ‘যে কোনো বিপদে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। না হলে বিপদ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। আমি আগে ছবিপ্রতি যে পারিশ্রমিক নিতাম, এখন সেটা কমিয়ে নেব। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্য অঙ্গনের মতো ক্ষতিগ্রস্ত সিনেমা অঙ্গন। প্রযোজক বাঁচলে, সিনেমা বাঁচবে। সিনেমা বাঁচলে শিল্পীরা বাঁচবেন। বাজেট কম হলে একজন প্রযোজক সহজেই তার বিনিয়োগ উঠাতে পারবেন।’ একই কথা বলেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, নুসরাত ফারিয়া, পূজা চেরি। নুসরাত ফারিয়া বলেন, ‘আমাদের শিল্পীদেরও দায়িত্ব আছে। এখন খারাপ সময় যাচ্ছে। তাই আগে সবার এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমি পারিশ্রমিক কমিয়ে সিনেমা তৈরিতে উৎসাহিত করতে চেয়েছি প্রযোজকদের। সিনেমার স্বার্থে যদি আরও কোনো কাজে আমাকে প্রয়োজন হয় আমি রাজি।’ বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আগে ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে হবে। আমি বরাবরই বলেছি, ভালো গল্পে পারিশ্রমিক নিয়ে আমার সঙ্গে কারও কাজে সমস্যা হবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে থাকতে চাই। ভালো কিছু করতে চাই।’ বাপ্পী চৌধুরী বলেন, ‘করোনার কারণে পুরো বিশ্বই স্থবির হয়ে আছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অবস্থাও ভালো নয়। আর আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থা তো করোনার আগে থেকেই খারাপ যাচ্ছে। তাই এ সময়ে চলচ্চিত্র যোদ্ধাদের এক হয়ে কাজ করা উচিত। ঢাকাই সিনেমা বাঁচাতে, সিনেমার সোনালি দিন ফেরাতে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমি আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চটাই দেব।’

advertisement
Evaly
advertisement