advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মৃত্যুর পরও আপনজনের সহানুভূতি পেল না মেয়েটি

সবুজবাগে অজ্ঞাত নারী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

৩ জুলাই ২০২০ ১০:৩৩
আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ১০:৩৩
advertisement

মেয়েটির জন্মের তিন ঘণ্টা পরই মারা যান তার মা। কিশোরী বয়সে পৌঁছানোর আগেই বাবার কাছ থেকে দূরে চলে যায় মেয়েটি। ময়মনসিংহ শহর ছেড়ে একাই চলে আসে ঢাকায়। শুরু হয় তার বেঁচে থাকার সংগ্রাম। এই অচেনা শহরে ভাসমান জীবনের পাশাপাশি শরীর বেচে জীবিকার পথ বেছে নেয়। এরই মধ্যে পেরিয়ে যায় অনেক বছর। বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। তবে দেখা হয় না। এরই মধ্যে এক খদ্দেরের খপ্পরে পড়ে। সেই খদ্দের প্রত্যাশিত অর্থ পরিশোধ না করে উল্টো মেয়েটিকে হত্যা করে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত হতে না পেরে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়। পরে পরিচয় পেয়ে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। কিন্তু মেয়ের বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী নন বাবা। ঢাকায় যারা পরিচিত তাদের সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করে কোনো সহযোগিতা পায়নি। মেয়েটি সব কিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেলেও আপনজনের কোনো সহানুভূতি নেই তার প্রতি। অভাগা এই মেয়েটির নাম মোসা. পলি (৩৫)।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন রাজধানীর সবুজবাগের দক্ষিণগাঁওয়ের কুসুমবাগের ১/১ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির (৪র্থ তলা) আন্ডারগ্রাউন্ডে জমে থাকা পানির মধ্য থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ডিজিটাল এবং অ্যানালগ পদ্ধতিতে ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেও ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটি ছিল ক্লুলেস। তদন্তে নেমে ওই ভবনের নিচতলার ভাড়াটিয়া সিএনজিচালক সাদা মিয়াকে সন্দেহ করে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সাঘাটা থেকে সাদা মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর এই ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে। ওই কক্ষ থেকে পলির মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। ওই ফোনের সূত্র
ধরে পলির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
পুলিশের সবুজবাগ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রাশেদ হাসান আমাদের সময়কে বলেন, সাদা মিয়া একজন সিএনজিচালক। গত ১৩ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পলিকে রামপুরা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে বাসায় নিয়ে আসেন সাদা মিয়া। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাদা মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে পলিকে শ^াসরোধে হত্যা করেন। রাতে বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে পানির মধ্যে লাশ ফেলে দেয়। তিনদিন পর পলির লাশ উদ্ধার করা হয়।
এসি রাশেদ আরও জানান, শুরুতে এটি ছিল একটি ক্লুলেস মার্ডার। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় বুঝতে পারি ওই নারীকে অন্যত্র হত্যার পর ওই বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে ফেলে যাওয়া সহজ নয়। প্রথমেই ধারণা করি ওই বাড়িরই কেউ না কেউ এই হত্যার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত শুরুর পর জানতে পারি ঘটনার দুদিন পর ওই বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া সাদা মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি স্থানীয় একটি চায়ের দোকানদারকে বলেছেন, শ^শুর মারা যাওয়ায় তিনি গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। তবে তার রুমমেটকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। রুমমেট যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এখানে তিনি আর আসবেন না। পরে সাদা মিয়া নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন। এতে তার প্রতি সন্দেহ বেড়ে যায়। তারপর গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তারের পর পুরো ঘটনার কথা তিনি স্বীকার করেন। এ নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

advertisement