advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন

৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৩২
advertisement

গত ১ জুলাই থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী শুরু হয়েছে। এটি বাংলাদেশ অঞ্চলের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটিশ সরকার ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠা করেছিল প্রধানত পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। তবে প্রথম পর্যায়ে মুসলমান জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও আর্থিকভাবে এত পিছিয়ে ছিল যে, ১৯৪৭-এর আগে সুযোগটির সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। তবে দেশভাগের পর পরই স্বাধীন পাকিস্তানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় চেতনার সূতিকাগার। এখান থেকেই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। আর ভাষা আন্দোলন থেকেই প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের অভিযাত্রা শুরু হয়ে যায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পরবর্তী প্রতিটি ধাপে এ বিশ্ববিদ্যালয়ই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। আর সে কারণে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণের অন্যতম লক্ষ্যস্থল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর শিক্ষকদের আবাস ও ছাত্রাবাসগুলো। ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনীর আক্রমণে বিশিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক, অনেক ছাত্র ও কর্মচারী শহীদ হয়েছিলেন। আবার স্বাধীনতার পূর্বলগ্নে ১৪ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর দেশীয় দোসর আলবদর ঘাতকদের হাতে অনেক শিক্ষক নির্মমভাবে শহীদ হন। এখানে বলা প্রয়োজন, ১৯৫৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা থেকে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত আরও তিনটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় ও দুটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি উদ্যোগেই অর্ধশতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য অতন্দ্র প্রহরী ও অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা পালন ছাড়াও এ বিশ্ববিদ্যালয় এক সময় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আচার্য সত্যেন বসু বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের আবিষ্কৃত একটি কণা সত্যেন বসুর প্রতি শ্রদ্ধা নিদর্শনস্বরূপ আজও ‘বোসন কণা’ নামে পরিচিত। আর এক সময়ের উপাচার্য বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. রমেশচন্দ্র মজুমদার ও বর্ষীয়ান ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকার সম্পাদিত বাংলার ইতিহাস প্রথম ও দ্বিতীয় খ- আজও বিশ্বের প-িত মহলে সমাদৃত হয়। এ ছাড়া ইতিহাস, বাংলা সাহিত্য, বিশুদ্ধ বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের নানা শাখায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষক ও ছাত্রদের গবেষণাকর্ম দেশে-বিদেশে সমাদৃত হয়ে আসছে। এখনো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা দেশে ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তবে এ কথাও মানতে হবে, সাম্প্রতিক কালে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়েরও শিক্ষাকর্মে অবক্ষয় ঘটেছে।

আজকের দিনে শিক্ষাবিদরা হতাশার সঙ্গে বারবার দেশের উচ্চশিক্ষার মানের অবনতি সম্পর্কে সতর্ক করছেন। কিন্তু ডিগ্রিমুখী শিক্ষার ফলে মানের অবনতি রোধ করা যাচ্ছে না। উচ্চশিক্ষায় ছাত্রসংখ্যাও এতটা বেড়েছে, তাতে সুষ্ঠু শিক্ষা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দুঃখের বিষয়, বর্তমানে আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে ৫০০-এর মধ্যেও নেই। এক সময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান হাল জাতির জন্য গভীর হতাশা ও উদ্বেগের বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন আজ অগ্রাধিকারভিত্তিক জরুরি চাহিদা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১০০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেসবের উদ্যোক্তারা শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি উদাসীন। এদের মূল লক্ষ্য ডিগ্রি ও সনদপত্র বাণিজ্য। এই নৈরাজ্যের মধ্যেও অন্তত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যথাযথ মানে উন্নত করা প্রয়োজন। এর মধ্যে নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রাধিকার পাবে।

advertisement