advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনা মহামারী শিক্ষার্থীদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

দীপ্তি সরকার
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ০১:১৫
advertisement

তিন মাস হয়ে গেল করোনা ভাইরাস স্তব্ধ করে দিয়েছে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোকে। ব্ল্যাকবোর্ড-চক-ডাস্টার, খেলার মাঠ কিংবা গবেষণাগার সবকিছু যেমন ছিল, তেমন আছে- শুধু নেই ছাত্রছাত্রীদের কোলাহল। দেশের বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজ নিস্তেজ। বিশাল বিশাল ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ আজ অনেকটাই প্রাণহীন। এক অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে আমরা জিম্মি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই হয়তো এ ভাইরাসের প্রতিকার আমাদের হাতে এসে পৌঁছাবে ঠিকই, কিন্তু ততদিনে ক্ষতির পরিমাণটা বেড়ে যাবে অনেকটাই। বৈশ্বিক এই মহামারী বাংলাদেশের মতো দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই ক্ষতির সরাসরি প্রভাব এসে পড়ছে দেশের শিক্ষার্থীদের জীবনে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত ছেলেমেয়েদের অনেকেরই পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার অবস্থায়।

যদিও বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ভার্চুয়াল এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে অনলাইনে পাঠদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। শুরু হয়েছে টিভিতে ক্লাস, ইন্টারনেটের বদৌলতে সম্ভব হচ্ছে অনলাইনে ক্লাস। একদিন যে ক্লাসরুমে স্মার্টফোন ছিল নিষিদ্ধ, আজ সেই স্মার্টফোনেই চলছে পড়াশোনা। তবে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাঠদানে এগিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। গুগল ক্লাসরুম আর জুম সর্বাধিক ব্যবহৃত হচ্ছে পাঠদানের মাধ্যম হিসেবে। বেশ কিছু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কেউ ফেসবুক লাইভ, কেউ ইউটিউবে পড়ানোর ভিডিও আপলোড করে চলেছেন ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

কিন্তু এভাবে কতদিন? আদৌ কি অনলাইন ক্লাস থেকে লাভবান হতে পারছে শিক্ষার্থীরা, তা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। তবে এসব প্রশ্নের চেয়েও বড় প্রশ্ন দেশের মোট শিক্ষার্থীর কত ভাগ অংশ নিতে পারছে বা পেরেছে এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমে?

অর্থনৈতিকভাবে পেছনের সারিতে থাকা হাজারো ছেলেমেয়ে যাদের কাছে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দূরে থাক, স্মার্টফোনই নেই। নেই ইন্টারনেট সংযোগও। এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যে পরিবারে টিভিও নেই। তাই তাদের কাছে ‘অনলাইন ক্লাস’ স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। দীর্ঘ সময় একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্মুখীন হতে চলেছে এক বিশাল সেশনজটের আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় না করতে পেরে থেমে যাবে হাজারো ছেলেমেয়ের লেখাপড়া। অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রমকে কীভাবে আরও সমৃদ্ধ করা যায়, এ জন্য সরকার ও শিক্ষাবিদদের একত্রে কাজ করতে হবে।

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ প্রদান করা যেতে পারে। টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি, ব্যাংক ও এনজিওগুলো উদ্যোগী হয়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের দিতে পারে নানাভাবে শিক্ষাঋণ। খণ্ডকালীন চাকরির সুবিধাও করা যেতে পারে। সর্বোপরি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। শিক্ষা আর প্রযুক্তির জ্ঞান দিয়ে ভবিষ্যতের আরও কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত করতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মদের।

 

দীপ্তি সরকার : কবি ও লেখক এবং বিভাগীয় প্রধান, জনসংযোগ বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি

advertisement