advertisement
advertisement

ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্রের ভয়াবহ ভাঙনে দিশাহারা ৪ গ্রামবাসী

ধমো. নজরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ ও রতন ভৌমিক ঈশ্বরগঞ্জ
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৫০
advertisement

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গত এক মাস ধরে চলছে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙন। এতে দিশাহারা চার গ্রামের দেড়শ পরিবার। পাশর্^বর্তী গৌরীপুর উপজেলার চরঈশ্বরদিয়া থেকে শুরু হয়ে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার মরিচারচর নামাপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙনের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। এরই মধ্যে ১৮টি পরিবারের সম্পূর্ণ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। আর শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি আংশিক বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশত একর ফসলি জমিও গিলে খেয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতিপথ পরিবর্তনের ফলেই আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে চর ঈশ^রদীয়া, মরিচারচর, নামাপাড়া ও পূর্বপাড়া গ্রামের ফসলি জমি ও গাছপালা। নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গত শনিবার এলাকার সহস্রাধিক মানুষ মানববন্ধন করেছেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত ভাঙনের কারণে অনেকেই ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, নদের পূর্ব পাশের ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে, আর পশ্চিম পাশে জেগে উঠেছে বিশাল চর।

মরিচারচর গ্রামের কৃষক নুর ইসলাম (৬৫) বলেন, আমরা চাই এ এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের সাবেক গতিপথ অর্থাৎ ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কালীর বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদের স্থান এক কিলোমিটার খনন করে দেওয়া হোক। তা হলেই চার গ্রামের মানুষের ফসলি জমি ও বাড়িঘর রক্ষা পাবে। মুক্তিযোদ্ধা মফিদুল ইসলাম নোমান চৌধুরী (৬০) বলেন, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনের ফলে এ বছর প্রায় দশটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। জানমাল রক্ষায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

উচাখিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের আওতায় নদের বর্তমান গতিপথ অনুযায়ী খনন করতে হবে কমপক্ষে পাঁচ কিলোমিটার, আর সাবেক পথ অনুযায়ী মাত্র এক কিলোমিটার খনন করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এতে সরকারি অর্থও সাশ্রয় হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধকল্পে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিএস রেকর্ড অনুয়ায়ী ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের আওতায় নদের পুরনো গতিপথ খনন, বেড়িবাঁধ সম্প্রসারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পবিারের মাঝে নদের অপর প্রান্তে জেগে ওঠা চর (খাস জমি) বন্দোবস্ত প্রদানের সুপারিশসহ চারটি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুসা জানান, ব্রহ্মপুত্র ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

advertisement