advertisement
advertisement

লড়াইয়ে তারাও সম্মুখযোদ্ধা

মোহা. অলিদ মিয়া মাধবপুর
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৫০
advertisement

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আলাকপুরে বসবাসকারী বেদে সম্প্রদায়ের পঞ্চাশোর্ধ্ব স্বামী পরিত্যক্তা মালা বেগম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আশ্রিত ছোট বোন স্বামীহারা সাধনার ঘরে। দুই বছর ধরে অন্ধত্ববরণকারী এই বৃদ্ধার দেখভাল করতে ভাইজি মহিমা আক্তারকে ঘরে রেখে সাধনা (৪০) প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বের হতেন গ্রামগঞ্জে। কিন্তু মহামারী করোনার কারণে সাপের খেলা দেখানো ও তাবিজ-কবজ বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরুষহীন তিন জনের সংসারে বেঁচে থাকা যখন খুবই কঠিন, ঠিক সেই সময়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে বেদে পল্লীতে হাজির হয়েছিলেন মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনুভা নাশতারান। তিনি এই পল্লীর ৮৪টি ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেন। এ জন্য ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞ মন্টু ও তার স্ত্রী নাজমাসহ বেদে পল্লীর বাসিন্দারা।

শুধু বেদে পল্লীই নয়, করোনায় উপার্জন হারানো কৃষ্ণনগর গ্রামের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ইদ্রিসসহ এই সম্প্রদায়ের অনেকে পেয়েছেন এই নারী ইউএনওর হাতে মানবিক সহায়তা। তাসনুভা নাশতারানের সঙ্গে মাঠে থেকে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়েশা আক্তার।

সচেতনতা ও কঠোরতাÑ এই দুই নীতি নিয়ে মহামারী করোনা দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উপজেলার সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন মাধবপুর উপজেলার দুই শীর্ষ নারী কর্মকর্তা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর। এ অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই মহামারী দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও মানবিক সহায়তা দিচ্ছেন ইউএনও এবং এসিল্যান্ড। নিজ বাসায় রান্না করে ডরমিটরিতে বসবাসরত কর্মকর্তাদের খাবার সরবরাহ করতেও ভোলেননি এসিল্যান্ড আয়েশা আক্তার।

এই দুই নারী কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ রেখেছেন উপজেলার সব বিপণিবিতান। তাদের রাতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলের।

সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সরকারি মানবিক সহায়তা সুষমভাবে বণ্টনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও ও এসিল্যান্ড। সে কারণে উপজেলায় সরকারি মানবিক সহায়তা নিয়ে এখনো কেনো কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেনি।

গত মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন অপরাধীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ২৫ জনকে সাজা প্রদান করেন। একই সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিভিন্ন অপরাধে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিভিন্ন অপরাধীকে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদ- করেন।

মোটকথা উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও এক পৗরসভার প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করেছেন এই দুই কর্মকর্তা; আর দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন মানবিক সাহায্য। তারা প্রয়োজনে কঠোর হচ্ছেন, আবার স্থাপন করছেন মানবিকতার দৃষ্টান্ত। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনগণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করছেন। অন্যদিকে নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছেন আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের। বন্ধ থাকা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের প্রতিও নজর দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কর্ম ও উপার্জনহীন বেসরকারি অসহায় শিক্ষকদের খুঁজে বের করে চুপিসারে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারন বলেন, সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার মাধবপুর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে অর্ধশত শিল্প-কারখানায় বিদেশি শ্রমিকসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা কর্মরত। সে কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই করোনা সংক্রমণ রোধে আমরা মাঠে কাজ করছি।

advertisement