advertisement
advertisement

গাজীপুরে নজরদারি নেই পশুর হাটে

করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

ফয়সাল আহমেদ গাজীপুর সদর
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৫০
advertisement

করোনার কারণে কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নজরদারি ছাড়াই গাজীপুরের গবাদি পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে সরকারি বিধি-নিষেধ না মানায় এসব পশুর হাট হয়ে উঠতে পারে করোনার হটস্পট, আর এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে সারাদেশেই। তবে জেলা প্রশাসন করোনা সংক্রমণ রোধে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

গাজীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় অর্ধশত স্থায়ী বাজারে সপ্তাহে একদিন করে গবাদি পশুর হাট বসে। ইদুল আজহাকে সামনে রেখে আরও ১০টি অস্থায়ী বাজার বসানো হচ্ছে। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর স্থায়ী বাজারগুলোয় পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিপক রঞ্জন রায় জানান, জেলায় ৬ হাজার ৮৬৮ জন খামারি ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তাদের গবাদি পশু বিক্রির উপযোগী করে তুলছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আসন্ন ঈদে জেলায় কোরবানির যোগ্য দেড় লক্ষাধিক গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারে সঠিক মূল্য না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষক বা খামারি গাজীপুরে তাদের পশু বিক্রি করতে আসেন। এবার করোনা সংক্রমণের কারণে যদি বাজারে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করা যায় তাহলে অনেকেই হয়তো আসবেন না। তাহলে পশুর সংকট তৈরি হয়ে দাম বেড়ে যেতে পারে। তাই সার্বিক দিক লক্ষ্য রেখে খোলা জায়গায় বেশি বাজার বসানোর পরামর্শ তার। তাহলে হয়তো স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হবে।

শ্রীপুরের ভাই ভাই ডেইরি খামারের পরিচালক আবু সাইদ জানান, প্রতিবছর শতাধিক গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা করেন। এবারও ৭০টি গরু বিক্রির উপযোগী করে তুলেছেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা নুরুজ্জামান মৃধা জানান, করোনার কারণে এবার ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ রোধে বাজারের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে। অস্থায়ী বাজারগুলো এখনো শুরু হয়নি।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, করোনার সংক্রমণ রোধে স্থানীয় বাজারগুলোতে নজরদারি করতে ইতোমধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। যেসব বাজারে পশু বিক্রি হবে তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার পরিচালনা করবেন। অন্যথায় বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংক্রমণ রোধে এবার অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কেউ যেন কোরবানির পশু কিনে প্রতারিত না হন, সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গবাদি পশুর কেজি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন পুরো প্রক্রিয়াটি নজরদারি করবে।

advertisement