advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার কোরবানিতে দেশি গরু কিনতে হবে চড়া দামে

ডাবলু কুমার ঘোষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৫০
advertisement

করোনা পরিস্থিতিতে সীমান্তে বিএসএফের কড়াকড়ি এবং গরুর বিট/খাটালের অনুমোদন না থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোরবানির পশুরহাটগুলোয় ভারতীয় গরু ও মহিষের আমদানি নেই। এ কারণে এবার দেশি গরু চড়া দামে কিনতে হবে ক্রেতাদের। অন্যদিকে, প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, দেশে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোরবানি পশু মজুদ থাকায় দামে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। আর করোনাকালে মানুষের হাতে টাকা না থাকায় এ বছরের ঈদুল আযহায় কোরবানি দেওয়ার সংখ্যা কমতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে কোরবানি ঈদের সময় আর মাসখানেক থাকলেও পশুর হাটগুলোয় গরু ও ব্যাপারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরই কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন সীমান্তপথে বিট/খাটাল দিয়ে ভারতীয় গরু আমদানি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর জেলার কোনো সীমান্তে বিট/খাটালের অনুমোদন নেই বলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

মনাকষা হাটের ইজারাদার মো. মোজাম্মেল হক জানান, সীমান্তে বিএসএফের কড়াকড়ির কারণে গত ঈদুল আযহার আগে থেকেই ভারতীয় গরু-মহিষের তেমন আমদানি নেই। তার পর করোনাকালে এমনিতেই মানুষের কিছুটা অভাব এবং কাজকর্ম না থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দিতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এবারের কোরবানির মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত ক্রেতা এবং বাইরের ব্যাপারীদের পশুরহাটগুলোয় দেখা মিলছে না। সঙ্গে সঙ্গে এখন হাটগুলোয় দেশি গরুর তেমন আমদানিও বাড়েনি।

একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় গরু না আসায় এবং সীমান্তের ওপারে অনেকের গরু আটকা পড়ায় লোকসানের মুখে পড়ে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। আর প্রতিবছরই কোরবানি ঈদের আগে আগে বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর অর্থাৎ ভারতীয় অংশে অনেক গরু-মহিষ মজুদ করা হতো। কিন্তু ভারতীয় অংশে এবার গরুর মজুদ নেই। কেননা এদিকে করোনা পরিস্থিতির অবনতি এবং অন্যদিকে রয়েছে বিএসএফের কড়া নজরদারি।

একাধিক সূত্রের দাবি, শিবগঞ্জের মাসুদপুর সীমান্তে পদ্মা নদীতে এখন পানি বৃদ্ধির কারণে খুব স্রোত রয়েছে। আর এ স্রোতে ভারত থেকে নদীপথে ভাসিয়ে কিছু গরু আসার কথা বলছেন পদ্মা পাড়ের মানুষ।

শিবগঞ্জের তর্তিপুর হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম জানান, প্রতিবছর এ সময় কোরবানি পশুর হাটে ব্যাপক গরু আমদানি, ক্রেতা-বিক্রেতা, ব্যাপারী ও পাইকারদের হাঁকডাকে হাটগুলো জমে ওঠে। অথচ এবার করোনা পরিস্থিতি এবং সীমান্তপথে ভারতীয় গরুর আমদানি না থাকায় এখনো হাট জমে ওঠেনি। অথচ কোরবানির ঈদের আগে হাটবারগুলোয় মূলত ইজারামূল্যের সিংহভাগের টাকা উত্তোলিত হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কয়েক মাস হাট বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। আর সব মিলিয়ে তাদের ইজারার টাকা উঠানো সম্ভব নাও হতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা ।

৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া জানান, জেলায় এ পর্যন্ত কোনো বিট/খাটালের অনুমোদন নেই। আন্তর্জাতিক সীমানারেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের কেউ যেন গরু আনতে না যায়, সে জন্য উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে সীমান্তে মাইকিং এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয়দের নিয়ে ছোট ছোট সভা করা হচ্ছে বিজিবির পক্ষ থেকে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশেই এবার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত কোরবানি পশুর মজুদ রয়েছে। এতে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পেয়ে লাভবানের পাশাপাশি আগামীতে আরও উৎসাহিত হবেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জেলায় এবারের ঈদুল আযহায় কোরবানি পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার। আর কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ৯৮ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে রয়েছে ৫৪ হাজার ৮শ ৪১টি গরু, ৩ হাজার ৪০৬টি মহিষ, ৪০ হাজার ৫২২টি ছাগল, ভেড়া ও গাড়ল। আর জেলার ৫টি উপজেলায় ১৬টি বড় ধরনের পশুর হাট রয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, কোরবানির কয়েক মাস আগে থেকে তাদের পরামর্শে ছোট বড় ৪শটি খামারে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। আর এসব খামারির উৎপাদিত গবাদিপশু কোরবানির হাটে নায্য দাম যেন পায়, সে জন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালে সীমান্তে বিজিবি ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ রোধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে নিয়েছে সতর্কতামূলক অবস্থান।

advertisement