advertisement
advertisement

এডিপির ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ কসবায় ৯০ শতাংশ কাজের হদিস নেই

দীপক চৌধুরী বাপ্পী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২২:৫০
advertisement

কসবা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজের ৯০ শতাংশেরই হদিস নেই। অথচ কাজ শেষ হয়েছে বলে প্রত্যয়ন পেয়ে ঠিকাদাররা বিল উঠিয়ে নিয়ে গেছেন বলে নানা সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হচ্ছে। অবশ্য কাজ না করে বিল পরিশোধের বিষয়টি কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কায়সার ভূঁইয়া জীবন অস্বীকার করে বলেছেন, আমি কাজ না দেখে কোনো বিল পরিশোধ করব না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট এডিবির বিশেষ বরাদ্দের ৫০ লাখ টাকা আসে। উন্নয়নের জন্য কিছু প্রকল্প তৈরি করেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে রয়েছে রাস্তা, রিটার্নিং ওয়াল, ঘাটলা, কালভার্ট নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, সেতুর সৌন্দর্যবর্ধন, নলকূপ স্থাপন, মাদ্রাসার উন্নয়ন ইত্যাদি। পৌর এলাকাসহ উপজেলার চারগাছ, বাদৈর, শ্যামবাড়ি নোয়গাঁও, মূলগ্রাম, নয়নপুর, চকচন্দ্রপুর, আকছিনা ও রাইতলা এলাকায় এসব উন্নয়ন হওয়ার কথা। তাজ এন্টারপ্রাইজ, মীম এন্টারপ্রাইজ, মোবাইল ফেয়ার, হাবিব এন্টারপ্রাইজ, প্রাপ্তি ট্রেডার্স, ওমরাহ খান ইন্টারন্যাশনাল, হাসান অ্যান্ড হুসাইন এন্টারপ্রাইজ, শাহা ট্রেডার্স, মেসার্স ঈশা ইলেকট্রনিকস, মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ, শুকরিয়া এন্টারপ্রাইজ ও বুশরা ট্রেডার্সকে এসব কাজ দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাসান অ্যান্ড হুসাইন নামে নবীনগরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একটি। বাকিগুলো কসবার। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কাজের বিল উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। তবে সরেজমিন এলাকা ঘুরে জানা যায়, এসব কাজের ৯০ শতাংশও এখনো হয়নি। শুধু পৌর এলাকার একটি সেতুর সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। বাকিগুলোর কোনো হদিস নেই। এলাকার লোকজন এসব কাজের বিষয়ে অবগত নন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এসব কাজের বেলায় কোনো ধরনের নিয়ম মানা হয়নি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার জীবনসহ সংশ্লিষ্টরা পছন্দের ঠিকাদারকে এসব কাজ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো দরপত্রও আহ্বান করা হয়নি কিংবা কোনো প্রচার চালানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত কাজ না করিয়েই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ওই বরাদ্দের প্রকল্প তৈরিসহ কোনো ধরনের বিষয়েই সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। এমনকি কাজ করা হয়েছে বলেই বিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ঠিকাদাররা কাজ না করলেও তাদের কাগজে-কলমে কিছু করার সুযোগ থাকবে না। আর নিজেদের রক্ষা করতে তখন সংশ্লিষ্টরাও কিছু বলবেন না।

উপজেলার বিনাউঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন প্রথমে এডিবির কোনো বরাদ্দ পাননি জানালেও পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনির হোসেনকে দফায় দফায় ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিক বলেন, আমি অসুস্থ, এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এ ছাড়া কেউ আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ উল আলম বলেন, ৯ জুন এ বরাদ্দ আসে। ২৫ জুনের মধ্যে কাজের বিল সাবমিট না করলে টাকা ফেরত যেত। যে কারণে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় না গিয়ে সরকারি বিধি মেনে বিকল্পভাবে কাজ দেওয়া হয়। টাকা চলে গেলে এলাকারই ক্ষতি হবে, এমন চিন্তা থেকে ঠিকাদারকে বিল দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকার পে-অর্ডার রেখে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে কাজ না করার সুযোগ নেই।

যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে তারা এর চেয়ে বেশি টাকার কাজ করেন। যে কারণে কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করবেন সেটাও মনে করি না। আর কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করে পার পাওয়ারও সুযোগ নেই। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটি বেশ ভালোভাবেই তদারক করছেন।

advertisement