advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাক্ষাৎকারে শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের কোনো যুক্তি নেই

আবু আলী
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২৩:২৪
advertisement

‘কোভিড ১৯-এর কারণে অনেক শিল্প কারখানাই বন্ধ। সামনে হয়তো আরও বন্ধ হবে। ইতোমধ্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে; কমেছে চাহিদাও। এমন সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫ পাটকল বন্ধ কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনিতেই মানুষ বেকার হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করবে। কোভিড ১৯-এর সময়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কোনো দায়িত্বশীল লোকই সঠিক বলে মনে করেন না।’ গতকাল আমাদের সময়কে কথাগুলো বলছিলেন শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রেরও (টিইউসি) সভাপতি তিনি। শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এর আগে বিএনপি সরকার পাটকল বন্ধ করতে চেয়েছিল; কিন্তু শ্রমিকদের

আন্দোলনের মুখে করতে পারেনি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকারও পাটকল বন্ধ করতে চেয়েছিল, তখনও পারেনি; কিন্তু বঙ্গবন্ধুর গড়া পাটকল আওয়ামী লীগ সরকার বন্ধ করলÑ এটি অমানবিক। কোনোভাবেই ন্যায্য হয়নি। এর আগে ১৯৯৭ সালে বাওয়ানী পাটকল বন্ধ হয়েছে; কিন্তু কই, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই পাটকল তো আর চালু হয়নি। বরং ওই মিলের ২৫ একর জায়গা বেহাত হয়েছে। সেখানে হাউজিং প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সে উদাহরণ আমাদের সামনেই রয়েছে।’

এ শ্রমিক নেতা বলেন, ‘২৫ পাটকলে যেসব স্থায়ী শ্রমিক আছেন, তারা হয়তো শ্রম আইন অনুসারে পাওনা পাবেন। এটি তাদের অধিকার; কিন্তু সেখানে অস্থায়ী ১৩ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তারা কিছুই পাবে না। বেকার হয়ে তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতেই। অথচ ২০ বছর ধরে তারা সেখানে কাজ করে আসছিলেন। এ সংকটকালে এতো শ্রমিকের বিকল্প কর্মসংস্থান কোথায় হবে, কীভাবে হবে? বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে সরকারকে। শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসা ও যাবতীয় সামগ্রীর নিশ্চয়তা দেওয়া সরকারেরই তো দায়িত্ব। ফলে সেই নিশ্চয়তা না দিয়ে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। অথচ বন্ধ না করে সরকার যদি পাটকলগুলোর যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করত, তা হলে লোকসান থেকে বের হয়ে আসত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও যেহেতু বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে অস্থায়ী শ্রমিকদের অন্তত আগামী চার মাসে নিয়মিতভাবে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া উচিত। তা হলে অন্তত দুমোঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন তারা। এর মধ্যে কোভিডের প্রকোপ কমলে তারা হয়তো বিকল্প কিছু করতে পারবেন।’

advertisement
Evaly
advertisement