advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে মানুষ

আমাদের সময় ডেস্ক
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৬
advertisement

যমুনা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে ওইসব নদী তীরবর্তী এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বন্যার্ত মানুষজন। অন্যদিকে পানি আরও বেড়েছে পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁয়। এর ফলে বন্যার অবনতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নদীভাঙন বেড়েছে ফরিদপুরের সদরপুর, মাদারীপুরের শিবচর ও রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে। বন্যার পানি আর নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বসতঘর ও গবাদিপশু নিয়ে মানুষ ছুটছে নিরাপদ আশ্রয়ে। এ ছাড়া কুড়িগ্রামে শহর রক্ষাবাঁধের ৪শ মিটারে ধস দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সেখানকার বাসিন্দারা।

পানি কমতে শুরু করেছে যমুনা নদীতে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। শুক্রবার বিকালে পানি কমে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী ম-ল জানান, জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

হয়েছে। তিনটি উপজেলার ৮৮টি গ্রাম এখনো পানির নিচে ডুবে আছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের শহর রক্ষাবাঁধের ৪শ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ২০১৭ সালে একই স্থান ভেঙে ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। ভাঙন স্থানটি এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ টেক্সটাইল বিছিয়ে সাময়িক মেরামত করলেও চলতি মৌসুমে পানি বৃদ্ধিতে ফের ওই বাঁধের বেশিরভাগ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর কয়েকটিতে পানি কমতে শুরু করেছে। তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন নিম্নাঞ্চলের ২১৬টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও কমতে পারে।

এদিকে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে নদীভাঙন বেড়েছে। ১শ ২০টির বেশি ঘরবাড়ি কোনো মতে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিস্তীর্ণ জনপদসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও সড়ক যোগাযোগ। নদীভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ি ও বন্দরখোলাবাসী। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে বন্দরখোলার অস্থায়ী বাঁধের একাংশ, একটি পাকা মসজিদ। এ ছাড়াও ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, একটি বাজারসহ বিস্তীর্ণ জনপদ।

কাঁঠালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহসেনউদ্দিন সোহেল বেপারি বলেন, পদ্মার ভাঙনে আমার ইউনিয়নের চরচান্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি আক্রান্ত হওয়ায় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চরজানাজাত ও বন্দরখোলা ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাঙছে পদ্মা।

শিবচর সহকারী কমিশনার ভূমি এম রকিবুল হাসান বলেন, জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দৌলতদিয়া পয়েন্টের পরিমাপক ইদ্রিস আলী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফরিদপুরের সদরপুরে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। শুক্রবার পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ ৯ দশমিক ৯ মিটার উচ্চতা থাকায় বিপদসীমার ৪৪ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত কয়েক দিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে চরমানাইর, চরনাসিরপুর, ঢেউখালি ও দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়াসহ ৪টি ইউনিয়নে ব্যাপক আকারে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কারণে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদীপারের মানুষজন। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীভাঙনে গত ২ দিনে বিলীন হয়েছে চরমানাইড় ইউনিয়নের হাকিম নগর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতবাড়ি, গাছপালা, ফসলি জমি ও বহু স্থাপনা। ভেঙে পড়ছে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা। অনেকেই ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রমত্তা পদ্মাতীরে বাঁধ না থাকায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদেনীম-ল ইউনিয়নের দুটি গ্রামের শতাধিক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। সেই সঙ্গে মাওয়া থেকে কান্দিপাড়া ও যশলদিয়া গ্রামে চলাচলের বিকল্প সড়কটি ভাঙনের মুখে রয়েছে। ফলে এলাকাবাসী বিপাকে পড়েছেন। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দক্ষিণ মেদেনীম-ল ও মামুদপট্টি গ্রাম দুটিতে প্রবেশ করেছে। গত কয়েক দিনে ক্রমাগত পানির তোড়ে রাস্তা ভেঙে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে হাঁটার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন।

এ ছাড়া টাঙ্গাইলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ছয়টি উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৯৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। দুর্গম চরাঞ্চলের পানিবন্দি বেশিরভাগ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন বগুড়া থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক প্রদীপ মোহন্ত, কুড়িগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক মোল্লা হারুন উর রশীদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম, টাঙ্গাইল সদর প্রতিনিধি আবু জুবায়ের উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি নাদিম হোসাইন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, মাদারীপুরের শিবচর প্রতিনিধি সম্পা রায় ও ফরিদপুরের সদরপুর প্রতিনিধি প্রভাত কুমার সাহা।

advertisement
Evaly
advertisement