advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শরীরচর্চা পণ্যের দাম বেড়েছে

গোলাম রাব্বানী
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুলাই ২০২০ ০৮:৪৯
advertisement

করোনার প্রাদুর্ভাবে অনেকটা সময় লকডাউনে থাকতে হয় সাধারণ জনগণকে। এর পর লকডাউন শিথিল করা হলেও সংক্রমণের ভয়ে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকে। অধিকাংশ সময় ঘরে থাকায় স্বাস্থ্যের ওপর পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। ওজন বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যায়ামের গুরুত্ব এবং ব্যায়াম অনুশীলন পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এক মাসে ব্যায়াম অনুশীলনের প্রতিটি পণ্যের মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আমদানি আগের মতো না হওয়ায় বাজারে পণ্যের সংকট রয়েছে। তা ছাড়া আমদানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

গতকাল গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটে ব্যায়াম অনুশীলন পণ্যের দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভিড়। চাহিদার কারণে আনা হয়েছে নতুন নতুন সরঞ্জাম। ক্রেতাদের ভিড়ে সামাজিক দূরত্বও বজায় রাখা সম্ভবও হচ্ছে না। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন জিম ও পার্ক বন্ধ থাকায় তারা এখন অনুশীলন পণ্য কিনে ঘরেই শরীরচর্চার কাজ সারতে বাজারে ঢুঁ মারছেন। আধুনিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে ফ্লোডিং এসব সরঞ্জাম স্বল্প স্থান দখল করে বিধায় হোম জিমে ঝুঁকছে অনেকে।

পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহেদ আলম বলেন, লকডাউনে পরিবারের সবার ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন জিমনেসিয়াম কিংবা অন্যত্র ব্যায়াম নিরাপদ নয়। সে জন্য ঘরেই সব ব্যবস্থা করছি। তবে দাম বেশি বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিছু জিনিস গত মাসে ৬০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। তা এখন ৮০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার কারণে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাজার ঘুরে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক মাস আগে হ্যান্ড গ্রিভসের দাম ছিল ৬০ থেকে ২২০ টাকা, যা এখন ১০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইয়োগা ম্যাট ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ৭০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সহজে ব্যায়াম করার ৪৫০ টাকার রোভেফ্লেক্স এখন ৫৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪ হাজার টাকার সিক্স প্যাক কেয়ার সাইকেল ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হোম জিম ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও দাম পণ্যভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। ডাম্বেল কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও তা এখন ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা দামের ম্যানুয়াল ট্রেডমিল এখন ৯ হাজার থেকে ২৫ হাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ইলেকট্রিক ট্রেড মিল এক মাস আগে ৩০ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হলেও তা এখন ৪০ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে পণ্য সংকট এবং আমদানি মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

নবাবপুর স্পোটর্সের কর্ণধার আলতাফ হোসেন বলেন, আমাদানি বাজারেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভারী ইকুইপমেন্টগুলোতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা এমনিতেই বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে স্বাভাবিকভাবে আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বিগত যে কোনো বছরের তুলনায় বেচা-বিক্রি অনেক বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত শীত ও বর্ষাকালে ব্যক্তি পর্যায়ে হোম জিমের সরঞ্জাম বেশি বিক্রি হয়। কিন্তু এখন অনেক সচেতন নাগরিক হোম জিমে ঝুঁকছেন। কারণ মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঘরেই স্বল্প জায়গায় পরিবারের সবার জন্য হোম জিম স্থাপন করা যায়। ফলে সময় ও আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হন তারা।

 

advertisement
Evaly
advertisement