advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুগদা হাসপাতালে রোগীর সন্তানকে মারধর
দুই সাংবাদিকের ওপর আনসারের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৬
advertisement

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দিতে আসা রোগীর সন্তানকে মারধরের ছবি তুলতে গিয়ে আনসার সদস্যদের দলবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন দুই ফটোসাংবাদিক। তারা হলেনÑ বাংলাদেশ প্রতিদিনের জয়িতা রায় এবং দেশ রূপান্তরের রুবেল রশীদ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে এ হামলার পর দুই সাংবাদিককে বেঁধে রাখারও হুমকি দেওয়া হয়। ভেঙে ফেলা হয় রুবেল রশীদের ক্যামেরার লেন্সের ফিল্টার। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে বলে অভিযোগ করেছেন হামলার শিকার দ্ইু সাংবাদিক।

জয়িতা রায় বলেন, সকালে হাসপাতালে রোগী সিরিয়ালের অনিয়মের ছবি তুলছিলাম। এ সময় সিরিয়াল ভাঙায়

ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীর ছেলের সঙ্গে আনসার সদস্যের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য ওই যুবকের জামার কলার ধরে টেনে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ওই ছবি তুলতে গেলে আনসার সদস্যরা দলবদ্ধ হয়ে আমাকে মারধরের চেষ্টা চালায়। এ সময় রোগীর স্বজনরাও আনসারদের আচরণের প্রতিবাদ করেন। ঘটনাটি দূর থেকে দেখে দেশ রূপান্তরের সহকর্মী রুবেল রশীদ ও ডেইলি স্টারের আনিসুর রহমান এগিয়ে আসেন। তখনও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আনসাররা খারাপ ব্যবহার করে যাচ্ছিল। ঘটনার ছবি তুলতে গেলে আনসাররা রুবেল রশিদের ক্যামেরার লেন্সের ফিল্টার ভেঙে ফেলে।

রুবেল রশীদ বলেন, মুগদা হাসপাতালে কোভিড-১৯ টেস্টের জন্য শুক্রবার ৪০ জনকে টিকিট দেওয়া হয়; কিন্তু ৩৪ জনের পরীক্ষা করেই আনসার সদস্যরা বলেনÑ আজ পরীক্ষা শেষ। এ সময় ৩৬ নম্বর সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা শাওন হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে আনসার সদস্যদের তর্ক হয়। একপর্যায়ে আনসাররা তার গায়ে হাত তোলে এবং তাকে টেনে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনার ছবি তুলতে গেলে ফটোসাংবাদিক জয়ীতা রায়কেও মারতে আসে রফিকুল ইসলাম নামে এক আনসার সদস্যসহ উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা। এরপর ছবি তুলতে আমি এগিয়ে যাই। তখন আনসার সদস্যরা থাবা মেরে আমার ক্যামেরার ফিল্টার ভেঙে ফেলে। আমি এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে ওই আনসার সদস্য আমাকেসহ উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের গালাগাল এবং বেঁধে রাখার হুমকি দেয়। আনসার রফিকুল বলে, ‘এখানে আমাদের রংবাজি চলবে।’ ঘটনার সময় অদূরে পুলিশের একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করে। বিষয়টি গাড়িতে থাকা পুলিশ সদস্যকে জানানো হলে তিনি ‘দুঃখজনক’ মন্তব্য করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

মুগদা থানার এসআই আলতাফ হোসেন জানান, মুগদা হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

advertisement
Evaly
advertisement