advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হংকংয়ের ‘স্বাধীনতায়’ চীনের ‘হস্তক্ষেপ’

যুবা রহমান
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৬
advertisement

আয়তনে ছোট হলেও কয়েকশ বছর আগে থেকেই হংকং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দরের পরিচিতি পেয়েছে। ১৫০০ শতকে পর্তুগিজরা দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মিত বাণিজ্য করত। এর ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশরা ওই এলাকায় বাণিজ্য শুরু করে। একসময় হংকংয়ে তারা কলোনি স্থাপন করে। কিন্তু ততদিনে বাণিজ্য এতটাই ফুলেফেঁপে উঠেছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ কারণে ১৮০০ শতকে ব্রিটিশরা হংকংকে চীনের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়। লিজের চুক্তিতে উল্লেখ ছিলÑ মেয়াদ শেষ হলে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। এর পরই মূলত বাণিজ্য নগরীটির চেহারা পাল্টে যেতে থাকে। ওই অঞ্চলে ১৯১১ সালে প্রথম হংকং বিশ্ববিদ্যালয় নামে উচ্চশিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। ১৯২৪ সালেই চালু হয় বিমানবন্দর। ১৯৮৪ সালে ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে সমঝোতা হয় যে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু সমঝোতার শর্ত হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয় যে হংকংবাসী বিশেষ স্বায়ত্তশাসন, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পাবে। চীন এই শর্তে রাজি হয় এবং ৫০ বছর এই স্বাধীনতা প্রদানের গ্যারান্টি দেয়। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে যুক্তরাজ্য। সেই সময় থেকে হংকং চীনের অধীনস্থ অঞ্চল হলেও সেখানে নিয়ম ভিন্ন, যাকে বলা হয় ‘এক দেশ, দুই নীতি’। হংকংবাসী যে ধরনের স্বাধীনতা পেয়ে থাকে চীনের মূল ভূখ-ের বাসিন্দারা তা পায় না।

চলতি বছর হংকংবাসী ১ জুলাই হস্তান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি পালন করেছে এক ভিন্ন পরিবেশে। কেননা এর আগেই চীন নতুন জাতীয়

নিরাপত্তা আইন পাস করেছে, যা হংকংয়ের প্রচলতি স্বাধীনতাকে ক্ষুণœ করেছে। গত মঙ্গলবার ওই আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাতের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। মূলত হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকে বাগে আনতে এই আইন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর আইন পাস করেই বসে থাকেনি বেইজিং; এর একদিন পরই অর্থাৎ বুধবারই আইনের প্রয়োগও শুরু করেছে। নতুন আইনের আওতায় দশ জনকে আটক করা হয়েছে। আর গতকাল শুক্রবার হংকংয়ে নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার কঠোর পদক্ষেপের গল্প বেশ সুপরিচিত। ঝেন ইয়াংঝিওন নামের ওই কর্মকর্তা ২০১১ সালে ওকান গ্রামে মৎস্য চাষিদের বিক্ষোভ শক্ত হাতে দমন করেছিলেন।

হংকংয়ে বিক্ষোভ দানা বাঁধে মূলত গত বছর মার্চ মাস থেকে। সেই সময় হংকংয়ের পার্লামেন্ট ‘প্রত্যর্পণ আইন’ নামে একটি বিতর্কিত আইন পাসের উদ্যোগ নেয়। সেই আইনে বলা হয়েছিল, হংকংয়ে কোনো অপরাধীকে বিচারের জন্য চীনের মূল ভূখ-ে প্রেরণ করতে হবে। ওই আইনের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ হয়। সব বয়সের লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রত্যর্পণণ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে থাকে। প্রথম দিকে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ হলেও পরবর্তী সময়ে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। আন্দোলনের চাপে ওই আইন পাস থেকে সরে আসেন হংকংয়ের নির্বাহী প্রধান ক্যারি লাম। শুধু সরেই আসেননি, এ আইন উত্থাপনের জন্য কয়েকবার তিনি প্রকাশ্যে জনগণের কাছে ক্ষমাও চান। তাতেও থামেনি বিক্ষোভ। সেই সময় থেকেই বেইজিং মূলত ক্ষুব্ধ। চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি তা হজম করতে পারেনি। তাই হংকংকে বাগে আনতে এবার নতুন আইন পাস করেছে তারা। যুক্তরাজ্য তো বটেই, অন্য পশ্চিমা দেশগুলো এ আইনের নিন্দা জানিয়ে বলছে, এটা হংকংয়ের স্বাধীনতাকে ক্ষুণœ করছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে নতুন আইন হংকংয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেছে, ‘হংকং নিয়ে অন্য কারও মাথা ঘামাতে হবে না। এদিকে নতুন আইন পাস হওয়ার পরই গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাথাল ল হংকং ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি, আন্দোলন এখনো জীবন্ত, হংকংবাসী হাল ছাড়বে না। তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন শঙ্কায় অজ্ঞাত স্থান থেকে এসব কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে। তবে পরিস্থিতি বলছে, হংকংবাসী এতদিন যে স্বাধীনতা ভোগ করেছে তা ফিরে পেতে এখন অনেক দাম চুকাতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement