advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুযোগের অপেক্ষায় সাব্বির

সুসান্ত উৎসব
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুলাই ২০২০ ০০:০৭
advertisement

নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরতে চান সাব্বির রহমান। আবারও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সব শেষ ২০১৮ সালে ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন। গত বছরের জুলাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে ওয়ানডে এবং সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে সবশেষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছেন এই ব্যাটসম্যান। করোনা ভাইরাসের কারণে খেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে রূপগঞ্জের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন সাব্বির। এর আগে খেলেছেন বঙ্গবন্ধু বিপিএলে। কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে ১১ ম্যাচে ২০৪ রান করেছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের কারণে এখন খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। ছুটির সময়টা গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে কাটাচ্ছেন সাব্বির। সেখানেই ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন। ২৮ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমি এখন ব্যাটিং-বোলিং করছি না। বেসিক্যালি জিম এবং রানিং করছি। সপ্তাহে তিন দিন জিম, তিন দিন রানিং। একদিন বিশ্রাম। যে কয়দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকব এই রুটিন অনুসরণ করার চেষ্টা করব। খেলায় ফিরলে তখন আবার ব্যাটিং, বোলিং নিয়ে অনুশীলন করব।’

সাব্বির জানান তিনি জাতীয় দলকে অনেক মিস করেন। তিনি জানেন, জাতীয় দলে ফেরাটা তার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তার পরও হাল ছাড়তে নারাজ। সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সাব্বির বলেন, ‘প্রতিটা ক্ষেত্রেই সব সময় আমার জন্য চ্যালেঞ্জ। কোনো না কোনোভাবে আমি যদি প্রিমিয়ার লিগটা ভালো খেলতে পারি আল্লাহর রহমতে যদি লিগ হয় বা না-ও হয় তা হলে পরবর্তী কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে সুযোগ পেলে নিজের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি শিওর আমি যদি ২-১টা সিরিজ ভালো খেলতে পারি তা হলে আবার জাতীয় দলে কামব্যাক করার আশা আছে আমার।’

সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে সাব্বিরের। তারা বিভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করেন তাকে। সাব্বির বলেন, ‘ঠিক পরামর্শ না; তামিম ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়, সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে কথা হয়। এ ছাড়া মুশফিক, মাশরাফি, রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়। এই ৫-৬ জন সিনিয়রের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। ওনারা যেটা বলেন তা হলো, ধৈর্যের চেয়ে বড় জিনিস কিছু নেই। ধৈর্য ধর। কিছু ভালো ম্যাচ খেল। তুই তো একবার নিজেকে প্রমাণ করেছিস, এবারও নিজেকে প্রমাণ করতে বেশি সময় লাগবে না। ২-১টা ভালো ম্যাচ খেললেই আবার দলে কামব্যাক করবি।’

সাব্বির জানান, বিপিএলে তিনি যা দিতে চেয়েছিলেন তা পারেননি। নিজের পারফরম্যান্সে খুব একটা সন্তুষ্ট নন এই ব্যাটসম্যান। সাব্বির বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। একটা কথা কি, আপনি যদি পাঁচ বছরে দশটা কোচের অধীনে অনুশীলন করেন তা হলে ১০টা মাইন্ড নিয়ে আপনাকে খেলতে হবে। কেউ বলবে প্রথম বলে ছয় মার, কেউ বলবে ১০টা বল খেল, কেউ বলবে একটু সময় নিয়ে খেল, সব কিছু যখন গুলিয়ে ফেলবেন তখন জিনিসটা কিন্তু আপনার বিপক্ষে চলে যাবে। টি-টোয়েন্টি এমন একটা খেলা যদি আপনি ২-৩টা ম্যাচে রান না করতে পারেন তা হলে কিন্তু চাপটা সব সময় আপনার দিকেই চলে আসবে। তখন আপনাকে ডু অর ডাই কিছু করতে হবে। অনেক সময় হয়নি। মেন্টালি সাপোর্ট করেনি। সত্যি বলতে কি, আমি এখনো শিখছি। শেখার কোনো শেষ নেই।’

বিয়ের পর বদলে গেছেন সাব্বির! তিনি এখন অনেকটাই পরিণত। পদ্মাপারের এই ক্রিকেটার বলেন, ‘বিয়ের পর সাব্বির অনেক পরিণত (হাসি)। দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। নিজের পরিবার তো আছেই সঙ্গে আরেকটা পরিবার যোগ হয়েছে। দুইটা পরিবারের দায়িত্ব এখন আমার। তা ছাড়া বয়স তো আস্তে আস্তে বাড়ছে, কমছে না। ম্যাচিউরিটি আস্তে আস্তে বাড়ছে। জ্ঞান, বুদ্ধি বাড়ছে। সবকিছু ভালোমতোই মেইনটেইন করতে পারছি। এর আগে খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে পরিবারকে খুব বেশি সময় দিতে পারিনি। এখন হোম কোয়ারেন্টিনের জন্য পরিবারকে সময় দিতে পারছি। খুব ভালো লাগছে।’

advertisement