advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট
ঔষধ প্রশাসনের সঙ্গে কাল গণস্বাস্থ্যের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুলাই ২০২০ ০০:১৭
advertisement

নিজেদের উদ্ভাবিত র‌্যাপিড টেস্টিং অ্যান্টিবডি কিট উন্নয়ন বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে আগামীকাল রবিবার বৈঠকে বসবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

কিটের কার্যকারিতার ব্যাপারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আগামী ৫ জুলাই ঔষধ প্রশাসনের সঙ্গে আমরা বসে আলোচনা করব। আমরা নিশ্চিত হয়েছি, এফডিএ’র গাইডলাইন অনুসরণ করলে আমাদের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা খুব সহজে প্রমাণ হবে। অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন গাইডলাইন অনুসরণ করা হবে, সেটাও আগে নির্ধারণ করে দেওয়ার অনুরোধ করব।

একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকলে আমরাও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারব। যেহেতু অনুমোদন না দিলেও কিটের পরবর্তী উন্নয়নে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছে, তাই আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করব এবং এসব বিষয়ে জানতে চাইব।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে নিজেদের উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এতে দেখা গেছে, কিটটির সংবেদনশীলতা (সেনসিটিভিটি) ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা (স্পেসিফিসিটি) ৯৬ শতাংশ। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরীক্ষায় কিটটির সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা পাওয়া গিয়েছিল ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা ৯৬ শতাংশ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এফডিএ’র আমব্রেলা গাইডলাইনের আলোকে কিটের সর্বনিম্ন সংবেদনশীলতা ৯০ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা ৯৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিবডি কিটের সংবেদনশীলতার মাত্রা এর ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ৯০ শতাংশের কম হওয়ায় এটির অনুমোদন দেয়নি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। তবে পরবর্তীতে কিটটির উন্নয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন।

এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এফডিএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা আমাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেছি, এর সংবেদনশীলতা বিএসএমএমইউ যা বলেছে, তার চেয়ে বেশি আছে। এখন সব মিলিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা কী হবে, কীভাবে সেটা নেওয়া যায়, এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

গত ২৫ জুন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর প্রথমবারের মতো সফল অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট পরীক্ষার জন্য দুটি গাইডলাইন বা নীতিমালা অনুসরণের কথা গণস্বাস্থ্যের কাছে উল্লেখ করেছে। এর একটি হলো মার্কিন কেন্দ্রীয় ওষুধ সংস্থা এফডিএ (ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) নির্ধারিত নীতিমালা, অন্যটি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড (মান)/গাইডলাইন (নীতিমালা)। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং লাইসেন্সিং অথরিটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের গণস্বাস্থ্যকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখিত নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে না পারার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটটির নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হলো না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেনারেল মাহবুবুর রহমান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘তবে পরবর্তী সময়ে এই কিটটির উন্নয়নের বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার আমাদের সময়কে বলেন, অ্যান্টিবডি কিটটির উন্নয়নে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কী ধরনের টেকনিক্যাল সহযোগিতা করতে চায় সে বিষয়ে জানতে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। তার জবাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের ৫ জুলাই সময় দিয়েছে। আমরা ওই দিন যাব।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটের উদ্ভাবক দলের প্রধান গবেষক ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের নতুন যে গাইডলাইন দিয়েছে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি অসুবিধা হবে না। আমরা শতভাগ আশাবাদী।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অ্যান্টিবডি কিটের মানোন্নয়নে সহযোগিতা করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষক দল প্রস্তুত আছে বলে জানান গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা। তবে এ জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নতুন করে সম্মতি লাগবে। ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার জানান, আমাদের সঙ্গে বিএসএমএমইউ’র কারিগরি কমিটির কথা হয়েছে। তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

advertisement
Evaly
advertisement