advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হংকং ছাড়লেন গণতন্ত্রপন্থি নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৪ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুলাই ২০২০ ০০:২৩
advertisement

বেইজিংয়ের চাপিয়ে দেওয়া নতুন নিরাপত্তা আইনে গণতন্ত্রপন্থি বেশ কজন নেতাকর্মীকে আটকের পরে আতঙ্কে হংকংয়ের এক রাজনৈতিক নেতা চীন নিয়ন্ত্রিত এ শহরটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। নাথান ল নিজেই তার হংকং ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি।

সাবেক ছাত্রনেতা নাথান ২০১৪ সালে হংকংয়ের ‘আমব্রেলা আন্দোলন’-এর পর জেল খেটেছিলেন। এখন বাইরে থেকেই হংকংয়ের গণতন্ত্রের জন্য লড়বেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই আন্দোলন এখনো সজীব। ঝুঁকি থাকলেও হংকংয়ের মানুষ হাল ছাড়বে না।’

মঙ্গলবার চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ সদস্যের সম্মতিতে নতুন যে জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে, তাতে হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাতের সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। হংকংয়ের সরকার মঙ্গলবার রাত থেকেই আইনটি কার্যকরের ঘোষণা দেয়। নতুন এ আইনটিকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকর্মীরা।

আইনটি কার্যকরের প্রতিবাদে বুধবার শহরটির কয়েক হাজার বাসিন্দা বিক্ষোভও করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস, জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করতে হয়েছে।

বিতর্কিত এ আইনটির সমালোচকরা বলছেন, ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্য যখন চীনের কাছে হংকংকে হস্তান্তর করেছিল, তখন ‘এক দেশ দুই ব্যবস্থার’ চুক্তিতে পরবর্তী ৫০ বছরের জন্য শহরটির অধিক স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণœ এবং বাসিন্দাদের সুনির্দিষ্ট কিছু অধিকার দেয়ার কথা বলা হলেও ২৩ বছরের মাথায় করা নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন তার ‘সুস্পষ্ট লংঘন’।

বিতর্কিত এই আইনের মাধ্যমে হংকংয়ের বাসিন্দাদের বাকস্বাধীনতা পুরোপুরি খর্ব হলো বলেও অভিযোগ করছেন তারা।

সমালোচকদের এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বেইজিং। তারা বলছে, হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপ রুখতে নিরাপত্তা আইন কার্যকর জরুরি হয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালে নাথান হংকংয়ের সবচেয়ে কমবয়সি আইনপ্রণেতাও নির্বাচিত হয়েছিলেন; নিয়ম মেনে শপথ নেননি- এমনটা প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। বুধবার ভিডিওলিংকের মাধ্যমে মার্কিন কংগ্রেসে হংকং বিষয়ক এক শুনানিতে ল বলেন, চীন নিয়ন্ত্রিত শহরটিতে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন তিনি।

advertisement