advertisement
advertisement

গোঁজামিলের বিদ্যুৎ বিলে দায়ী ২৯০ জন

বিলম্ব মাসুল ছাড়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের সময় বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে গ্রাহকের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ তদন্তের ব্যবস্থা নেয়। সেই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে গতকাল রবিবার দুপুর ১টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করেন বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ৩০ জুনের মধ্যে আবাসিক গ্রাহকের বিলম্ব মাসুল ছাড়া বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার যে সময় বেঁধে দেওয়া হয় সেটি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা চলছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বাড়তি বিল সংশোধনের যে চেষ্টা চলছে সেটা অব্যাহত থাকবে। তবে জুনের বিলের সঙ্গেই সব সমাধান করা যাবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সারাদেশে ৬২ হাজার ৯৬ গ্রাহককে বেশি বিল দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ২৯০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গঠিত টাস্কফোর্স যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের সবার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সচিব ড. সুলতান আহমেদ বলেছেন, বিদ্যুৎবিল নিয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করা হচ্ছে এবং হবে। কোনো অবস্থাতেই ব্যবহৃত বিদ্যুতের বেশি বিল গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হবে না। সব অভিযোগের তদন্ত করে বিল সমন্বয় করে দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সচিবের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান (বিআরইবি) মেজর জেনারেল (অব) মঈন উদ্দিন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কাওসার আমীর আলী,

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জাকিউল ইসলাম, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শফিক উদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইনসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিতরণ প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ সচিব এবং বিতরণ কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

বিদ্যুৎ সচিব বলেন, দেশে বর্তমানে ৯৭ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আছে। করোনাকালে আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে ৬০১ জন আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ অবস্থায় (লকডাউন) আমাদের কর্মীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গ্রাহকের আগের বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে বিল তৈরি করেছে। এতে অনাকাক্সিক্ষতভাবে কোনো কোনো গ্রাহকদের বিল বেশি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে সেসব বিল চলতি বা পরের মাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। সচিব অনাকাক্সিক্ষত সমস্যার কারণে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিদ্যুৎ সচিব জানান, কর্মক্ষেত্রে গাফিলতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির আওতায় আনা শুরু হয়েছে, যা চলমান। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিতরণ কোম্পানির ২৯০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নানারূপ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পিডিবি ও আরইবির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো নিরপরাধ কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন শাস্তি না পান, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান সচিব। এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, শুধু আবাসিকের জন্য বিলম্ব মাসুল ছাড়া বিল দেওয়ার সময় আরও বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে। তবে শিল্প-বাণিজ্যের জন্য কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সারাদেশে বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত ৬টি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংখ্যার অনুপাতে অভিযোগের হারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, করোনাকালীন বিদুৎবিল নিয়ে সমস্যা যে সংখ্যক গ্রাহকদের হয়েছে, তা মোট গ্রাহকের তুলনায় খুবই কম। তিনি জানান, পিডিবির মোট গ্রাহক ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৫১৫ জন, অভিযোগ পাওয়া গেছে ২,৫৮২টি, যা গ্রাহকের অনুপাতে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। আরইবির মোট গ্রাহক ২ কোটি ৯০ লাখ, অভিযোগ পাওয়া গেছে ৩৪,৬৮১টি, যা মোট গ্রাহকের শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। ডিপিডিসির মোট গ্রাহক ৯ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৯, অভিযোগ পাওয়া গেছে ১৫,২৬৬টি, যা মোট গ্রাহকের এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। ডেসকোর গ্রাহক ১০ লাখ (পোস্ট পেইড গ্রাহক ৭১০,৬৬৩ জন), অভিযোগ পাওয়া গেছে পোস্ট পেইড গ্রাহক পর্যায়ে ৫৬৫৭টি, যা মোট গ্রাহকের শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ। নেসকোর মোট গ্রাহক ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৮ জন, অভিযোগ পাওয়া গেছে ২,৫২৪টি, যা মোট গ্রাহকের শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। ওজোপাডিকোর মোট গ্রাহক ১২ লাখ ১৩ হাজার, অভিযোগ পাওয়া গেছে ৫৫৫টি, যা মোট গ্রাহকের শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

advertisement