advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

দেশের বিভিন্ন নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে গেছে অনেকের বাড়িঘর থেকে। এর ফলে নানা দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই বাড়িতে ফিরে গেছেন তারা। তবে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় এখনো তারা উঁচু সড়ক ও বাঁধসহ নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন। তারা খাদ্য, নিরাপদ পানিসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছেন। এছাড়াও নদী ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী এলাকার মানুষ।

এ দিকে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উত্তরাঞ্চলের বন্যার প্রভাবে পানির চাপ বেড়েছে কীর্তনখোলা নদীতে। এর ফলে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ভাসছে বরিশাল নগরীর নিম্নাঞ্চল। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরÑ

কুড়িগ্রাম : জেলার সবকটি নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অপরিবর্তিত বন্যায় সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সারডোব বাঁধের ৪শ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ভাঙন এলাকাগুলোতে জরুরি কাজ শুরু করা হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ধরলা নদীর সদর পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপর, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ১ সেন্টিমিটার নিচ এবং তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ১০টি মেডিক্যাল টিম

বন্যা কবলিত এলাকায় কাজ করছে।

বরিশাল : দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় পানির চাপ বেড়েছে কীর্তনখোলা নদীতে। এর সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে ঢুকে পড়েছে বরিশাল নগরীতে। গতকাল দুপুর নাগাদ নদীতে জোয়ার আসার সাথে সাথে ডুবে যায় নগরীর নিম্নাঞ্চল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন এলাকাবাসী।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের কীর্তনখোলা নদীর গেজ রিডার মো. আবু রহমান আমাদের সময়কে জানান, কীর্তনখোলায় পানির সীমা স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়েছে। আর বিপদসীমার উপর রয়েছে ৬ সেন্টিমিটার। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং উত্তরাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে পানির চাপ বেড়েছে নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলায়। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কীর্তনখোলায় পানির সীমা ২.৫৫ থাকলেও এখন তা রয়েছে ২.৬১ মিটারে। আর বরিশাল নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা কীর্তনখোলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় এর মাধ্যমে জোয়ারের পানি সহজেই ঢুকে পড়ছে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল সাগরদীর দরগাহ বাড়ি, ধান গবেষণা রোড, দক্ষিণ আলেকান্দা ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোড, কেডিসি বস্তি এলাকা ও পলাশপুরের নিম্নাঞ্চল, ভাটারখালসহ বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। শহরের বর্ধিতাংশ হিসেবে পরিচিত কাশীপুর, টিয়াখালী, লাকুটিয়া, রুপাতলীরও বেশকিছু অংশ নিমজ্জিত হয় জোয়ারের পানিতে। পাশাপাশি বর্ধিত এলাকায় বিভিন্ন মৌসুমি ফসলেরও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১১ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মজিবর রহমান বলেন, জোয়ার এবং বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু কিছু এলাকায় পানি জমছে। তবে কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকছে না, দ্রুতই নেমে যাচ্ছে।

এ দিকে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছরই এ মৌসুমে নদীতে পানির চাপ বেড়ে যায়। এর ওপর যোগ হয়েছে উত্তরাঞ্চলের বন্যার প্রভাব। এসব কারণে হয়তো নগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে।

জামালপুর : যমুনার পানি কমতে থাকায় বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন জামালপুরের উঁচু এলাকার লোকজন। তবে নিম্নাঞ্চলে এখনো পানি থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না বানভাসিরা।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রবিবার সকালে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।

জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, এ পর্যন্ত যে ত্রাণ বরাদ্দ হয়েছে তা পর্যায়ক্রমে বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। এতে বন্যা কবলিতদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে বলে জানান তিনি।

নীলফামারী : জেলার ডিমলায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে রবিবার বিকাল ৩টায় তিস্তার পানি নেমে ৫২ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, গতকাল বিকাল ৩টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

advertisement