advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বগুড়া-যশোর উপনির্বাচন
ইসিকে একা সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ

আসাদুর রহমান
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

করোনার প্রাদুর্ভাব ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ১৪ জুলাই দুটি সংসদীয় আসনে উপর্নিবাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলছে কে এম নূরুল হুদা কমিশন। তবে সংবিধান ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন পেছাতে পারে সরকার। এর পরও নির্বাচন করতে চাইলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসির একক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে একাধিক দিনে ভোটগ্রহণ করা যেতে পারে।

সংবিধানের ১২৩(৪) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছেÑ ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করিবার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ এ অনুচ্ছেদে আরও উল্লেখ রয়েছেÑ ‘তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দুর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’

এর আগে সিইসি কে এম নূরুল হুদা জানিয়েছিলেন, তার এখতিয়ারভুক্ত পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে

ভোটগ্রহণ করতে না পারলে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এখন ইসি বলছে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলেছেনÑ নির্বাচন আয়োজন না করার আর কোনো সুযোগ ইসির হাতে নেই।

এ বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট শাহদীন মালিক আমাদের সময়কে বলেন, যেহেতু একবার ৯০ দিন পেছানো হয়ে গেছে, অতএব সাংবিধানিকভাবে আর পেছানোর সুযোগ নেই। এই ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্টের পরামর্শ চাওয়ার মতো কোনো জটিল সাংবিধানিক প্রশ্নের উদ্ভব হয়নি। এ অবস্থায় নির্বাচনের সময় করোনা সংক্রমণঝুঁকি কমানোর জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনবোধে একদিনে না করে নির্বাচনটা দুই বা তিন দিনে করা যায় কিনা, বিবেচনা করে দেখতে পারে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, একটা বড় দুর্যোগ হলো, বন্যা হলো, আপনি নির্বাচন করতে পারবেন? এর চেয়ে বড় দুর্যোগ চলমান। নির্বাচন পেছানোর অনেক নজির আছে এবং সংবিধানেও তেমন বিধান রাখা আছে। পেছানোর ক্ষমতা সংবিধান সরকারকে দিয়েছে। তিনি বলেন, ৯০ দিনের বাধ্যবাধকতা একটা বিষয়। আবার বিকল্প খোঁজার জায়গাও আছে। এবছর প্রায় ৮০টি দেশ নির্বাচন করার উপযোগী হয়েছে, তাদের অনেকে নির্বাচন করছে, আবার অনেকে করেনি। এখন সমাজ ও সরকারের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবেÑ সব কিছু ঠিক রেখে, জনস্বাস্থ্যের সব কিছু রক্ষণারেক্ষণ করে কতটুকু করতে পারবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনের সক্ষমতা বিবেচনা করে তাদের মতামত নিয়ে এটা করা বা না করাটা নির্ভর করবে। শুধু এককভাবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে এটা করা ঠিক হবে না।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা, আমার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, যেখানে নির্বাচন হবে সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক রোগী কম। এখন নির্বাচন করা সরকারি সিদ্ধান্ত, সরকার চাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্বাচন করা সম্ভব।

বগুড়ার সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

গত শনিবার নির্বাচন কমিশন সচিব মো. আলমগীর বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই দুটি আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের বিষয়ে কথা বলেছেন। যেহেতু সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮০ দিনের বেশি যাওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে কমিশন নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ২৯ মার্চ যশোর-৬ এবং বগুড়া-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে ভোটগ্রহণের সপ্তাহখানেক আগে তা স্থগিত করা হয়। আসন দুটির মধ্যে বগুড়ার শূন্য হয় ১৮ জানুয়ারি এবং যশোর শূন্য হয় ২১ জানুয়ারি। ইতোমধ্যে আসন দুটির উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের ৯০ দিন পার হয়েছে। সংবিধান প্রদত্ত সিইসির হাতে থাকা পরবর্তী ৯০ দিনও শেষ হবে যথাক্রমে আগামী ১৫ ও ১৮ জুলাই।

advertisement
Evaly
advertisement