advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাচ্ছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা

খেলাপিদের ছাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

কয়েক বছর ধরে কোরবানি পশুর চামড়ার বাজারে ব্যাপক মন্দা চলছে। গত বছরও ক্রেতার অভাবে নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ। তাই এবার চামড়ার বাজার স্বাভাবিক রাখতে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চামড়া খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে খেলাপি হয়েছেন, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে তারা ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবেন। এ সুবিধা পেতে হলে আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চামড়া শিল্পে সারা বছর ধরে ব্যবহৃত কাঁচামালের প্রায় অর্ধেকের জোগান আসে ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া থেকে। এ সময় কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন মূল্যবান কাঁচামাল সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আর্থিকভাবে উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, নিয়মিতভাবে পরিশোধ না হওয়ায় এ খাতের কিছু

ঋণখেলাপি (শ্রেণিকৃত) হয়ে পড়ছে। ফলে এ খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর কাঁচাচামড়া ক্রয়ের জন্য প্রকৃত ব্যবসায়ীদের কাছে অর্থপ্রবাহ সচল রাখার উদ্দেশ্যে তাদের অনিয়মিত ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয়ে পাঁচটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ গত ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের যে স্থিতি ছিল, তার ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো নিজেরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। ইতিপূর্বে আদায় করা কিস্তি ডাউন পেমেন্ট হিসেবে গণ্য হবে না। গ্রহীতাদের আওতার বাইরে কোনো কারণে ঋণ শ্রেণিকৃত হয়ে থাকলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল থাকলে এ সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া যাবে। কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ তলবি ও চলমান ঋণ সর্বোচ্চ ছয় বছর মেয়াদে এবং মেয়াদি ঋণ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে পুনঃতফসিল করা যাবে। শিথিল করা যাবে কোরবানির পশুর কাঁচাচামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট ঋণের শর্তও। আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে এ সার্কুলারের আওতায় ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য আবেদন করতে হবে।

খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের পর নতুন ঋণ নিতে হলে তাকে মোট পাওনার আরও ১৫ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। এটিকে কম্প্রোমাইজড অ্যামাউন্ট বলে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কমানো যায় না। নতুন সার্কুলারে এ শর্ত শিথিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, চামড়া খাতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণই সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই দীর্ঘদিনের পুরনো ঋণ। এ সোয়া ৩ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ৯০ শতাংশই আবার রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের।

advertisement
Evaly
advertisement