advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বেচ্ছাসেবকদের হুমকি দিয়ে বের হচ্ছেন অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুলাই ২০২০ ২২:৫৬
advertisement

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত শনিবার ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে রাজধানীর ওয়ারীর কিছু এলাকায়। শুরু থেকেই লকডাউন মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অনেকেই মানছেন না লকডাউন। তাদের মানাতে নেই যথেষ্ট উদ্যোগ, নেই শক্ত নজরদারিও। গত দুদিন দেখা গেছে, সকাল থেকেই মানুষ এলাকা থেকে বের হওয়ার জন্য দুটি নির্দিষ্ট প্রবেশপথে জড়ো হচ্ছেন। যদিও লকডাউন চলাকালে অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়ার কথা নয়। স্বেচ্ছাসেবকরাও অনেককে বাইরে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন, অনেকে খাতায় নাম লিখেও বের হচ্ছেন। আবার এলাকার

বিভিন্ন গলির মধ্যেও দেখা গেছে তরুণরা আড্ডা দিচ্ছেন।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকরা অভিযোগ করছেন, তাদের নির্দেশনা মানছেন না এলাকাবাসী। অনেকেই জোর করে বের হচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি বড় কর্মকর্তারা কোনো নির্দেশনাই মানছেন না। এ ক্ষেত্রে বাধা দিতে গেলে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গতকাল রবিবার ওয়ারী এলাকা ঘুরে নানা বিশৃঙ্খলার চিত্র চোখে পড়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে বাগ্বিত-ায়ও জড়িয়ে পড়তে দেখা যায় বাসিন্দাদের অনেককে। গলিগুলোতেও ছিল অসংখ্য মানুষের চলাচল। খোলা থাকা দুটি প্রবেশপথে ভিড় দেখা গেছে। লকডাউনের প্রথম দিন শনিবার ১৪৮ জনের যাতায়াতের তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল। গতকাল দুপুরের দিকে দেড় শতাধিক বাসিন্দার যাতায়াতের তথ্য মিলেছে।

ওয়ারীর লকডাউন এলাকার সব প্রবেশপথ বন্ধ করে কেবল দুটি পথ খোলা রাখা হয়েছে। জরুরি চলাচলের জন্য হট কেক গলি এবং ওয়ারী থানার পাশের র‌্যাংকিন স্ট্রিট গলির মুখ খোলা রাখা। ওই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালের রোগীরা প্রবেশ করছেন। তবে সেই পথে রোগীদের কোনো ধরনের সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি।

পুরনো ঢাকার মধ্যে ওয়ারী এলাকা অপেক্ষাকৃত অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ এলাকায় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের বসবাস। এ ছাড়া রয়েছেন বিপুলসংখ্যক বেসরকারি চাকরিজীবীও। ফলে সকাল থেকেই বাইরে বের হওয়ার জন্য ভিড় বাড়তে থাকে নির্দেশিত দুটি গলিতে। এর মধ্যে অনেকেই নাম লিপিবদ্ধ না করেই স্বেচ্ছাসেবকদের ম্যানেজ করে বের হয়ে যান। কাউকে বাধা দিতে গেলে দেওয়া হচ্ছে হুমকিও। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা নির্দেশনা মানছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করা মঞ্জুরুল কাদের মামুন বলেন, অনেকেই কোনো ধরনের নির্দেশনা মানছেন না। অনুরোধ রাখছেন না। ইচ্ছেমতো বের হয়ে যাচ্ছেন। কাউকে বাধা দিতে গেলে হুমকির ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, তিতাসের এক কর্মকর্তা আমাকে থ্রেট করেছেন। তিনি আমাকে বলেছেনÑ কোনো একটা দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার আমি নেব কিনা। আমি তো দায়ভার নেওয়ার লোক না। আমরা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে ঘরে পাঠাতে পারছি। কিন্তু সরকারি বড় কর্মকর্তাদের মানাতে পারছি না। তারা আমাদের থ্রেট করে বের হয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল আলী ইসলামপুরে ব্যবসা করেন। হট কেকের গলিতে অপেক্ষমাণ ছিলেন বের হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, এটি কোনো লকডাউন নয়। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। কাজ করে খেতে হবে। কিন্তু বের হতে পারছি না। ২১ দিন ঘরে বসে থাকলে ব্যবসা আর থাকবে না। তিনি বলেন, অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন ৪ তারিখের আগেই। এদের কেউ করোনা পজিটিভ থাকলে রোগ ছড়াবে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন থাকার পরও বের হতে পারছি না।

একই ধরনের কথা বলেন, বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা ইসমত আরা মীম। তিনি বলেন, লকডাউন এলাকায় সাধারণ ছুটির কথা বলা হলেও এটি অফিস দেখবে না। আমাকে কাজে যেতেই হবে। কিন্তু বের হতে নাজেহাল হচ্ছি। অথচ অনেকেই নানা পরিচয়ে বের হচ্ছেন।

এদিকে লকডাউন এলাকায় খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে তিনটি সুপার শপ খোলা রাখা হয়েছে। এর বাইরে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও নানা পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ভ্যানে করে স্বল্পদামে সবজি সরবরাহের আয়োজন করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর। বাজারমূল্যের চেয়ে কমে এসব সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকি হিসেবে ভ্যানচালকদের দৈনিক ৫০০ টাকা করে দিচ্ছেন কাউন্সিলর।

সার্বিক বিষয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বলেন, আমরা সর্বোচ্চচেষ্টা করছি লকডাউন বাস্তবায়নের। এ ক্ষেত্রে অনেকেই সহযোগিতা করছেন না। স্বেচ্ছাসেবকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর পরও আস্তে আস্তে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। মানুষকে বোঝানো হচ্ছে। আশা করছি আজ থেকে কোনো অব্যবস্থাপনা থাকবে না।

advertisement