advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অ্যান্টিবডি কিটের পরীক্ষা আশা দেখছে গণস্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৬
advertisement

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এফডিএ (যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রশাসন) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) অ্যান্টিবডি কিটের সক্ষমতা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পূর্বনির্ধারিত দিনক্ষণ অনুযায়ী গতকাল রবিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিটের উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী-গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাথে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অপর দুই সদস্য হলেন কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডটব্লট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মহিব উল্লাহ খোন্দকার, ডা. নিহাদ আদনান। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অ্যান্টিবডি কিটের বিষয়ে ইতিবাচক কথাবার্তায় আশাবাদী হয়ে উঠেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে আজকের (গতকাল) বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাকে আমি স্বাগত জানাই। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানাই। তার পরও আমার মন একটু খারাপ। কারণ এক ধরনের দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাচ্ছি। প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হলে বেশি খুশি হতাম।

বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক আমাদের কথা ইতিবাচকভাবে শুনেছেন এবং সর্বাত্মক সহায়তা করতে চেয়েছেন। অ্যান্টিবডি কিট আরেকবার পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সেই পরীক্ষা করার সক্ষমতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নেই। এটি করতে পারবে আইসিডিডিআর,বি। দু-এক দিনের মধ্যেই আমরা আইসিডিডিআর,বিতে যাব।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, অ্যান্টিবডি কিটের বিষয়ে আমরা আমাদের ইন্টারনাল ভ্যালিডেশন রিপোর্টকে আমলে এনে নিবন্ধনের অনুরোধ করেছিলাম। ঔষধ প্রশাসন বিদ্যমান সরকারি নিয়মে আবার কনট্র্যাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে এক্সটারনাল ভ্যালিডেশন করতে বলেছে। আমাদের আবেদিত রি-এজেন্টের জন্য অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গতকাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাথে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে নিজেদের

উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এতে দেখা গেছে, কিটটির সংবেদনশীলতা (সেনসিটিভিটি) ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা (স্পেসিফিসিটি) ৯৬ শতাংশ। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) পরীক্ষায় কিটটির সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা পাওয়া গিয়েছিল ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা ৯৬ শতাংশ। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এফডিএ’র আমব্রেলা গাইডলাইনের আলোকে কিটের সর্বনিম্ন সংবেদনশীলতা ৯০ শতাংশ ও নির্দিষ্টতা ৯৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি কিটের কার্যকারিতার ব্যাপারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এফডিএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী আমরা আমাদের কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেছি। এর সংবেদনশীলতা বিএসএমএমইউ যা বলেছে, তার চেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার আমাদের সময়কে বলেন, অ্যান্টিবডি কিটটির আমরা আরও উন্নয়ন করেছি। ইন্টারনালভাবে পরীক্ষা করেছি। তা আজ ঔষধ প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে নিবন্ধন চেয়েছিলাম। তারা বলেছে, এটা সিআরওর মাধ্যমে অ্যান্টিবডি কিটের সক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে।

বিজন কুমার শীল বলেন, আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করে কিট পরীক্ষা করতে খুব কম সময় লাগবে। ১০০ থেকে ১৫০টি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করলেই ফল পাওয়া যাবে। ৫০টি পজিটিভ স্যাম্পল ও ১০০টি নেগেটিভ স্যাম্পল পরীক্ষা করলেই হবে। এতে সর্বোচ্চ সাত দিন সময় লাগতে পারে এবং অন্য সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ ১৫ দিন সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিবডি ট্রায়ালের আগে বা ট্রায়াল চলাকালে আমাদের জানানো হয়নি ভ্যালিডেশনে এফডিএর আমব্রেলা গাইডলাইন অনুসরণ করা হবে। বিএসএমএমইউ সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। যে কারণে কিট মূল্যায়নে সমস্যা হয়েছে। অ্যান্টিজেন কিটের ক্ষেত্রে আমরা আগেই বলেছি, কোন প্রক্রিয়ায় ট্রায়াল হবে তা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আগেই নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর একটি গাইডলাইনের খসড়া প্রণয়ন করেছে। আগামী বুধবারের মধ্যে অ্যান্টিজেন কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার গাইডলাইন চূড়ান্ত হবে। তার আগে খসড়া অনুযায়ী আমরা আবেদন করতে পারব।

গত ২৫ জুন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর প্রথমবারের মতো সফল অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট পরীক্ষার জন্য দুটি গাইডলাইন বা নীতিমালা অনুসরণের কথা গণস্বাস্থ্যের কাছে উল্লেখ করে। এর একটি হলো মার্কিন কেন্দ্রীয় ওষুধ সংস্থা এফডিএ (ফেডারেল ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) নির্ধারিত নীতিমালা, অন্যটি হলো আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড (মান)/গাইডলাইন (নীতিমালা)। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং লাইসেন্সিং অথরিটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান গণস্বাস্থ্যকে দেওয়া চিঠিতে উল্লিখিত নীতিমালার শর্ত পূরণ করতে না পারার জন্য অ্যান্টিবডি টেস্ট কিটটির নিবন্ধন দেওয়া সম্ভব হলো না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেনারেল মাহবুবুর রহমান তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ‘তবে পরবর্তী সময়ে এই কিটটির উন্নয়নের বিষয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’

কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ডট ব্লট প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার আমাদের সময়কে বলেন, অ্যান্টিবডি কিটটির উন্নয়নে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কী ধরনের টেকনিক্যাল সহযোগিতা করতে চায়, সে বিষয়ে জানতে আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। তার জবাবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর আমাদের গতকাল সময় দিয়েছিল।

advertisement
Evaly
advertisement