advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মোংডু-আকিয়াব বন্দরে করোনা রোগী
মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আসা বন্ধ

আব্দুল্লাহ মনির টেকনাফ
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৬
advertisement

মিয়ানমারের মোংডু-আকিয়াব বন্দরে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। আকিয়াব বন্দরে লকডাউন শুরু হওয়ায় গতকাল রবিবার থেকে সেখানকার কোনো বাণিজ্যিক ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের বরাত দিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, মিয়ানমারের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা নিশ্চিত করেছেন রবিবার থেকে মিয়ানমার কোনো পণ্যবাহী ট্রলার ছাড়বে না। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কত দিন এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে, সেটি বলেনি তারা।

এহতেশামুল হক জানান, এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের আকিয়াব থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রলার আসেনি। শুধু মোংডু থেকে শুক্রবার একটি ট্রলার আসে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তবাণিজ্য বন্ধ থাকলে বাজারে মালামাল সংকট ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। টেকনাফ স্থলবন্দরের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা জানান, টেকনাফই হলো মিয়ানমারের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির

একমাত্র স্থলবন্দর। টেকনাফ স্থলবন্দর হলেও মূলত নদীপথ ব্যবহার করেই এই পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়। এটি একটি আমদানিনির্ভর স্থলবন্দর। মিয়ানমার থেকে কাঠ, চাল, মাছ, শুঁটকি, আদা, হলুদ, আচার, তেঁতুল, চকোলেট, মসলা ও মৌসুমি ফল আমদানি হয়। আর বাংলাদেশ থেকে বেশি যায় প্লাস্টিক পণ্য। এ ছাড়া সীমিত পরিসরে তৈরি পোশাক, সিমেন্ট ও ওষুধও রপ্তানি হয়। মিয়ানমারের মোংডু ও আকিয়াব থেকেই মূলত পণ্য আসে।

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় সপ্তাহখানেক ধরে আকিয়াব বন্দর থেকে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রলার আসেনি। তবে গত শুক্রবার মোংডু থেকে পণ্যবাহী একটি ট্রলার এসেছে। মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী ট্রলার না এলেও বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

স্থানীয় মো. হাশেম, জাহাঙ্গীর আলম, মো. সজিবসহ আরও কয়েকজন আমদানিকারক জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে মিয়ানমার থেকে আসার পথে ২ হাজার মেট্রিক টন আদা আকিয়াব বন্দরে আটকা পড়েছে। এগুলো আনা যাচ্ছে না। সেখানে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কারণে বন্দর লকডাউন চলছে। এই লকডাউন কখন স্বাভাবিক হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সোহেল আহমদ জানান, টেকনাফ দিয়েই মূলত বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্য চলে। এখন করোনার কারণে মিয়ানমার থেকে মালামাল আসা অনেক কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘মোংডুর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেনÑ রবিবার থেকে তারা কোনো মালামাল পাঠাতে পারবেন না। কারণ সেখানে করোনা রোগী পাওয়ায় লকডাউন চলছে।’

advertisement