advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বি-ক্লাস ৭৯ স্টেশনের অপারেটিং বন্ধ

মো. মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৬
advertisement

ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মী সংকটে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে লোকবল সংকটের কারণে অনেকটা জোড়াতালির মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। পূর্বাঞ্চল রেলের পরিবহন শাখায় চট্টগ্রাম বিভাগে পয়েন্টস ম্যান (পি-ম্যান), সান্টিং পোর্টার, সান্টিং জমাদার ও সহকারী ইয়ার্ড ফোরম্যানের (এওয়াইএফ) ৩৫০ পদের বিপরীতে কাজ করছে ১৭০ জন, যা অর্ধেকের চেয়েও কম। ট্রেন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে লোকবল সংকটের কারণে ৭৯টি বি-ক্লাস স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। জরুরি অপারেশনাল কাজে নিয়োজিত পরিবহন কর্মীদের ঘাটতি পূরণ না করলে ট্রেন পরিচালনায় বিঘœ সৃষ্টি হবে। তাই সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনার স্বার্থে অস্থায়ী (কাজ নেই মজুরি নেই) ভিত্তিতে পয়েন্ট ম্যান নিয়োগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে রেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে চরম লোকবল সংকট হলেও এর স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না। স্টেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অস্থায়ী নিয়োগের মাধ্যমে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিবছর কর্মীদের অবসরজনিত কারণে পদ খালি হচ্ছে। বর্তমানে রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। ফলে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ট্রেন পরিচালনা স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন শাখার চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭৬ জন পি-ম্যানের স্থলে কাজ করছেন ১৫৮ জন। ২৭ জন সান্টিং পোর্টারের মধ্যে ২০ পদই খালি। সান্টিং জমাদারের সব পদ খালি। ২২টি এওয়াইএফ পদের মঞ্জুরি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ১৭টি পদ শূন্য।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ট্রেন পরিচালনায় সহকারী ইয়ার্ড ফোরম্যানরা পি-ম্যান, সান্টিং পোর্টার ও সান্টিং জমাদারের সঙ্গে সমন্বয় করেন। সান্টিং জমাদাররা ইয়ার্ড বা স্টেশনমাস্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রেন চালকের সঙ্গে হাতের ইশারা সংকেতের

মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। সান্টিং পোর্টাররা সান্টিং জমাদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। পয়েন্ট সেট, সিগন্যাল দেওয়া এবং সান্টিং কার্যক্রম পরিচালনার কাজ করেন পি-ম্যানরা। এ ছাড়া শিডিউল ডিউটির বাইরে গেটকিপার হিসেবেও কাজ করেন। অর্থাৎ ট্রেন পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন পি-ম্যানরা। ফলে পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পয়েন্টস ম্যানের গুরুত্ব বর্ণনা করে রেলের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি স্টেশনে যদি স্টেশনমাস্টার না থাকে তা হলে ওই স্টেশনটির অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে হয়। একইভাবে একটি স্টেশনে একজন পি-ম্যান না থাকলেও স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। তাই ট্রেন পরিচালনায় পি-ম্যানের কোনো বিকল্প নেই।’

পি-ম্যান ঘাটতিজনিত পরিবহন বিভাগের একটি চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পি-ম্যান না থাকলে ট্রেন পরিচালনায় ৮ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তা হলো- বি-ক্লাস স্টেশন বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই স্টেশনের ক্রসিং ট্রেন পাইলটিং সান্টিং ব্যাহত এবং ট্রেন ফরমেশন বন্ধ হয়ে যাবে। ইন্টার লকিং স্টেশন হলে পয়েন্ট, সিগন্যাল ট্র্যাক সান্টিং বা অন্য যে কোনো কারণে ট্রেন পরিচালনা ব্যাহত হতে পারে। স্টেশন নন-ইন্টারলকড হলে ট্রেন ক্রসিং বন্ধ হয়ে যাবে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে ইমার্জেন্সি হ্যান্ডেল দ্বারা পয়েন্ট অপারেশন ব্যাহত হবে। ইয়ার্ড কার্যক্রমের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন ফরমেশন এবং সংযোজন-বিয়োজন করা যাবে না। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা বন্ধ এবং ইয়ার্ডের ট্রাফিক সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তা (সিওপিএস) এএমএম শাহ নেওয়াজ আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ট্রেন পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর পরও আমরা নানাভাবে ম্যানেজ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রেখেছি। বর্তমানে রেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তাই অস্থায়ী ভিত্তিতে পি-ম্যান নিয়োগ দিয়ে হলেও ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।

advertisement