advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লকডাউনের চালচিত্র
সুফল পেতে হলে সঠিক ব্যবস্থা নিতে হবে

৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:৪৩
advertisement

করোনা মহামারী প্রতিরোধে সরকার যথাসময়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে সূচনাতেই আমরা রোগের প্রাদুর্ভাব দমাতে পারিনি। প্রথম পর্যায়ে করোনার কারণে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণায় অন্তত এক সপ্তাহ দেরি হয়েছে এবং এ বন্ধ নিয়েও সঠিক নির্দেশনা ছিল না। যখন উদ্দেশ্য ছিল মানুষজনকে ঘরে বন্দি রাখা, তখন ছুটি ঘোষণায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দল বেঁধে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। আবার এই সময়ে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের যথাযথভাবে কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়নি। এর ফলে প্রথম পর্যায়ে আমরা সংক্রমিত মানুষদের দেশে প্রবেশ ঠেকাতে পারিনি। বর্তমানেও দেখা যাচ্ছে লকডাউন নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনায় স্বচ্ছতা নেই। লকডাউন ঘোষণা দেওয়ার পরও তা কার্যকর করতে অনেক দেরি হচ্ছে, আবার কার্যকর করলেও জনসাধারণের জন্য সঠিক ও স্পষ্ট নির্দেশনা সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না। ফলে লকডাউনের সুফল যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। আর যেভাবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন হট স্পটে মাত্র কয়েকটি ছোট ছোট এলাকায় লকডাউন করা হচ্ছে তাতেও সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, বিভ্রান্তি এবং অব্যবস্থা চলতে থাকলে লকডাউন বাস্তবায়নকারী সংস্থার সদস্যদের কাজ করা মুশকিল হয়। তাদের পক্ষে কঠোর অবস্থানে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের শীর্ষ পর্যায় অতিবাহিত করছে। ফলে এই সময়ে সরকারকে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব দুর্বলতা কাটিয়ে কার্যকর ব্যবস্থার দিকে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু সরকারপ্রধান না স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাল্টালেন, না সচিব বা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আনলেন। সবই একই রকম ঢিমেতালে চলছে। দেখা যাচ্ছে সংক্রমণের শীর্ষ পর্যায়ে যখন পরীক্ষার হার অনেক বাড়ানো দরকার ছিল, বিপরীতে তা বরং দিনে দিনে কমছে। ঢাকার বাইরে নির্দিষ্ট হাসপাতালের সংখ্যা এত কম যে, অধিকাংশ রোগী বাসাতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বস্তুতপক্ষে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত অনেক চিকিৎসক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মী মনে করছেন সরকার ঘোষিত মৃত্যু ও সংক্রমণ হারের তুলনায় বাস্তবে তা অনেক বেশি। একটু খোঁজখবর নিলেই এ ধারণাটির সত্যতা বোঝা যায়।

আমরা জানি না কেন বর্তমান সরকার করোনা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ইতস্তত করছে। অথচ সুফল পেতে হলে এর বিকল্প নেই। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে এবং জীবিকা রক্ষা করতে হলে করোনা দমন অপরিহার্য। সমাজজীবনে করোনার দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা করা কঠিন হবে। আমরা মনে করি, সারাদেশে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে একসঙ্গেই উচ্চ সংক্রমণের এলাকাগুলোতে লকডাউন দিতে হবে অথবা বিকল্প হতে পারে সারাদেশেই লকডাউন ঘোষণা করা। এর ১৪ দিন পর গ্রিন, ইয়েলো ও রেড এই তিন ভাগে এলাকাগুলোকে ভাগ করে ধাপে ধাপে লকডাউন খুলতে হবে। বস্তুত রঙের ভিত্তিতে জোন ভাগ করা হয়ে থাকে লকডাউন দেওয়ার জন্য নয় বরং লকডাউন তোলার জন্য। আমাদের সেটাতে যেতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement