advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাক্ষাৎকার
‘অদৃশ্য এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে’

জাহিদ ভূঁইয়া
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:৫৪
advertisement

অভিনেত্রী ও মডেল নাজিয়া হক অর্ষা। অনেক দিন বিরতির পর আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন তিনি। এদিকে তার অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘বুমেরাং’ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওয়েব সিরিজ, শুটিংয়ে ফেরা ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেনÑ জাহিদ ভূঁইয়া

দীর্ঘদিন বাসায় ছিলেন। সময় কেটেছে কীভাবে?

অনেক দিন এভাবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কখনই হয়নি। করোনার কারণে সেটা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি, রান্নাবিষয়ক কাজে সাহায্য করেছি। এ ছাড়া বই পড়ে আর সিনেমা দেখে সময় কেটে গেছে।

করোনা পরিস্থিতিতে অনেকের অনেক রকম উপলব্ধি। আপনার কী উপলব্ধি?

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া কিংবা অন্যসব অসুখের মতো এটাও একটা অসুখ। তবে অনেক বেশি জটিল। করোনায় পুরো পৃথিবী আজ এলোমেলো হয়ে গেছে। এর পরও সবাই এই ভাইরাস প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে। টানা অনেক দিন ঘরে থাকার কারণে কতকিছু যে মাথায় এসেছে! যা কখনো ভাবতে চাইনি, মনের মধ্যে সেসবও উঁকি দিয়েছে। তবে আমার মনে হচ্ছে, তাড়াতাড়ি এই সমস্যা আমরা কাটিয়ে উঠব। এর পর সুন্দর একটা পৃথিবী পাব।

এই ভাইরাস কি আমাদের কোনো শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন?

মানুষ মানুষের জন্যÑ এ শিক্ষাটাই ভালো করে দিয়ে যাচ্ছে। এই ভাইরাস হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাদা, কালো, ধনী, দরিদ্রÑ কোনো বাছবিচার নেই। সবাই মরছে। করোনার কারণে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেছে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গেছে। মানবিক হতে শিখেছে মানুষ।

অনেক দিন পর শুটিংয়ে ফিরলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেছেন নিশ্চয়?

গত ২ জুলাই সকাল আহমেদ পরিচালিত একটি নাটকের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন দিন ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। এতে আমার বিপরীতে ছিলেন আনিসুর রহমান মিলন। ইউনিটের সবাই চেষ্টা করেছি, সর্বোচ্চ সচেতন থেকে শুটিং করার।

এখন থেকে কি তা হলে নিয়মিত হবেন?

মনে হয় না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি নাটকের শুটিং শেষে সাত-আট দিনের একটা বিরতি নেব।

এমন পরিকল্পনা নেওয়ার কারণ কী?

বাবা-মা দুজনেরই বয়স হয়েছে। আমি চাই না, আমার কারণে তাদের কোনো ক্ষতি হোক। শুটিংয়ে সব ধরনের সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার পরও অদৃশ্য এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নিজের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। সে জন্য একটু রয়ে-সয়ে কাজ করব।

আপনার অভিনীত ‘বুমেরাং’ ওয়েব সিরিজ নিয়ে যে সমালোচনার ঝড় বইছে, সে প্রসঙ্গে কী বলবেন?

আমরা বিদেশি কনটেন্ট অবলীলায় দেখতে পারি। কিন্তু নিজের দেশের কিছু হলেই সমালোচনার ঝড় তুলি। তাই এটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। শুধু একটা প্রশ্ন রাখতে চাইÑ যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন, তারা আসলে কতটা ঠিক? শুধু ওয়েব সিরিজ নয়, প্রতিটি বিষয় নিয়েই এরা বাজে মন্তব্য করে আসছে। বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে নিয়েও এরা বাজে মন্তব্য করতে ছাড়েনি। আমি মনে করি, এই সঠিক সমালোচনার বদলে যারা আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছেÑ সেই শ্রেণিকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

নির্দিষ্ট একটি শ্রেণিই যদি বাজে কথা ছড়ায়, তা হলে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সিরিজটি সরিয়ে নেওয়া হলো কেন?

প্রযোজক-পরিচালক ভালো বলতে পারবেন, কাদের মন্তব্যের ভিত্তিতে তারা ‘বুমেরাং’ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলেছেন। যেহেতু সিরিজটি সরানো হয়েছে, তাই এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাই না। আমার কথা হলোÑ যা কিছু করা হয়েছে, তা দর্শকের কথা ভেবেই। কারণ প্রায় সময় তারা বলে থাকেন গৎবাঁধা গল্পের কারণে নাটক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। কিন্তু যখন চেনা ছকের বাইরে গিয়ে জীবনের সত্য ঘটনা নিয়ে গল্প বানানো হলো, তখন তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলো। আসলে এ দেশের দর্শক কী চায়, এটাই এখনো স্পষ্ট নয়।

advertisement
Evaly
advertisement