advertisement
advertisement

কাঁচা সড়কের ভোগান্তি থেকে মুক্তি চায় ৩০ হাজার মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক পটুয়াখালী
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০১:২৫
advertisement

পটুয়াখালীর সাগর উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে অধিকাংশ সড়কই কাঁচা। দীর্ঘদিনেও এগুলোর কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটিতে একাকার হয়ে যায় সড়কগুলো। আর এ কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে ওই ইউনিয়নের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলা সদর থেকে কলাপাড়া উপজেলায় যেতে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত একটি মাত্র রাস্তা। খালগোড়া বাজার খেয়াঘাট থেকে চরগঙ্গা ক্লোজারের ওপর দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে গাইয়াপাড়া লঞ্চঘাটে গিয়ে রাস্তাটি শেষ হয়। অপর দিকে ক্লোজারের পশ্চিম পার দিয়ে এই রাস্তা থেকে অপর একটি রাস্তা কাটাখালী গ্রাম হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে বড়বাইশদিয়া এ হাকিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই দুটি রাস্তাই ব্যস্ততম। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই রাস্তায় চলাচল করে। দীর্ঘ কয়েক যুগ আগে নির্মিত এই মাটির রাস্তা কখনো সংস্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে চলতি বছর রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজসংলগ্ন সাইক্লোন শেল্টার নির্মিত হওয়ায় ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবে খালগোড়া খেয়াঘাট থেকে শুরু করে দুই কিলোমিটার কানেকটিং রোড হিসেবে পাকা করা হয়। বাকি প্রায় ৬ কিলোমিটার এখোনো বেহাল অবস্থার মধ্যেই পড়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে যাতায়াতব্যবস্থা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও টমটম ব্যবহার হয়। অনেক কষ্টে ভাঙাচোরা রাস্তায় বেশি ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করে এলাকার মানুষ। বর্ষা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় ওইসব বাহন। মানুষকে চলাচল করতে হয় পায়ে হেঁটে। সামান্য বৃষ্টির হলে কাদামাটিতে একাকার হয়ে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পরে রাস্তাগুলো। ইউনিয়নের চারিদিকে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ থাকলেও মেরামতের অভাবে মাঝে মাঝে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। উচ্চতার দিক দিয়েও তা যথেষ্ট নয়। মাঝে মাঝে এত নিচু যে, প্রাকৃতিক যে কোনো দুর্যোগে, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি একটু বেশি হলে তলিয়ে যায় বেড়িবাঁধ। লোনা পানি ঢুকে যায় ফসলি জমিতে। যেমনটা ঘটেছিল ঘূর্ণিঝড় আম্পানেও। চরগঙ্গা বাজারের রাস্তায় নির্মিত স্লুইস গেটের দুপাশে অন্তত ৩০০ মিটারের মতো রাস্তা তলিয়ে পানি ঢুকে যায় গোটা এলাকায়।

স্থানীয় সমাজসেবক তোতা মিয়া জানান, দীর্ঘদিনেও রাস্তা উন্নয়ন বা সংস্কার করা হয়নি। বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা নদীর মতো হয়ে যায়। দূর থেকে তাকালে নদী মনে হয়। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কঠিন। রাস্তার বেহাল দশার কারণে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কবে এই ভোগন্তির শেষ হবে কেউ জানেন না। রাস্তাটির উন্নয়ন বা সংস্কার হলে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ চলাচলের পথ সুগম হবে। অন্যদিকে লোনা পানি থেকে রক্ষা পাবে ফসলি জমি।

বড়বাইশদিয়া ইউপি সদস্য মো. সোনা মিয়া জানান, রাঙ্গাবালী এবং কলপাড়া উপজেলায় যাতায়াত করতে হয় বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে। এখানের রাস্তাঘাট অনুন্নত থাকায় এই উপজেলার মানুষকে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা ও সোনারচর যেতে হয় এই পথ দিয়ে। এদিকে বড়বাইশদিয়ার অপরপাশেই পায়রা সমুদ্রবন্দর। সেখানে যেতে হলেও এই পথ পার হতে হয়। সব দিক বিবেচনায় এই সড়কগুলো অতিদ্রুত সড়ক উন্নয়ন করা দরকার।

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হাসানাত আব্দুল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তেরে আবেদন পাছিয়েছি বহুবার। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। তবে বর্তমান সরকার যেভাবে উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করছে তার ধারাবাহিকতায় খুব শিগগির যাতে এ রাস্তাগুলো পাকা করা হয়, সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

advertisement